
শেষ আপডেট: 12 September 2020 12:42
জেসি ওয়েন্সের জন্ম ১৯১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আমেরিকার আলবামার ডানভিলে এক দরিদ্র পরিবারে। মা-বাবার ১০ সন্তানের সবচেয়ে ছোট। শৈশবে ছিলেন রুগ্ন। ছিল শ্বাস নালীর সমস্যা। শিশু বয়স থেকেই সঙ্গী ছিল ব্রঙ্কাইটিস। কয়েকবার তা থেকে জীবন সঙ্কটও দেখা দিয়েছিল। মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছিলেন। বাবার নাম হেনরি ক্লিভল্যান্ড ওয়েন্স। মা এমা ফিৎজেরাল্ড। বাবা ছিলেন ঢালাইকার। কিন্তু নিয়মিত কাজ পেতেন না। ফলে তুলো চাষ করে তাঁকে সংসার চালাতে হত। সেই আয়ও ছিল খুব সামান্য।
জেসি ওয়েন্সকেও ৭ বছর বয়স থেকে বাবার সঙ্গে তুলো চাষের কাজে হাত লাগাতে হত। একবার উইভিলস পোকার আক্রমণে সব তুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারে আরও দারিদ্র্য নেমে আসে। দিন কাটতে থাকে প্রায় না খেয়েই। জমি বিক্রি করে জেসির পরিবার চলে যেতে বাধ্য হয় ক্লিভল্যান্ডে। জেসির বয়স তখন ৯ বছর। ক্লিভল্যান্ডে যাওয়ার পর জেসির কাজ ছিল মুদির জিনিস বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। কিছুদিন জুতো মেরামতির দোকানেও কাজ করেছেন। পরে ছাত্র থাকাকালীন লিফট অপারেটরের কাজও করেছেন। একসময় রাজ্য আইনসভার উর্দি পরা কর্মী ছিলেন।
ক্লিভল্যান্ডে গিয়েই জেসি দেখা পান চার্লস বা চার্লি রিলের। ফেয়ারমাউন্ট জুনিয়র স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক হলেও আইরিশ এই ভদ্রলোক ছিলেন অ্যাথলেটিক্স কোচও। জেসিকে দেখে চার্লির মনে হয়েছিল বড় অ্যাথলিট হবে। প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই পাশের বোল্টন জুনিয়র হাই স্কুল থেকে নিজের স্কুলে এনে ভর্তি করান জেসিকে। দারিদ্র্যে র মধ্যেও শুরু হয় জেসির পদক জেতা। পরে লেখাপড়া করেছেন ইস্ট টেকনিক্যাল হাই স্কুল এবং ওহিও ইউনিভার্সিটিতে।
শুধুই কি দারিদ্র্য? গায়ের রঙ কালো বলে পদে পদে সমস্যায় পড়তে হয়েছে জেসি ওয়েন্সকে। স্কুল বা ইউনিভার্সিটি থেকে কখনও খেলোয়াড় হিসেবে কোনও বৃত্তি পাননি। অথচ ওঁর চেয়ে কম সাফল্য পাওয়া অনেকেই সেই বৃত্তি পেয়েছেন, গায়ের রঙ সাদা হওয়ায়। আরও কত সমস্যা! ওয়েন্স জানিয়েছেন, বন্ধুদের সঙ্গে একবার এক রেস্তোরাঁয় খেতে ঢুকেছেন। মালিক শ্বেতকায়। সেখানে কালোদের প্রবেশ নিষেধ ছিল। কর্মীরা খবর দেন মালিককে। তিনি এসে প্রায় ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বার করে দেন জেসিকে। বার্লিনের সাফল্যের পর ওই রেস্তোরাঁর মালিকই জেসির সম্মানে ভোজ দিয়েছিলেন!
একসময় ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ১৯৭৯-র শেষ দিকে শারীরিক অবস্থা প্রচণ্ড খারাপ হয়ে পড়ে। পরের বছর মস্কো অলিম্পিক নিয়ে তখন টালমাটাল অবস্থা। আমেরিকা মস্কো অলিম্পিক বয়কট করতে চলেছে। তা নিয়ে বিশ্ব তোলপাড়। আমেরিকার তখনকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সঙ্গে হৃদ্যতা ছিল ওয়েন্সের। অসুস্থ অবস্থাতেই তিনি জিমি কার্টারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, মস্কো অলিম্পিক বয়কট করা ঠিক হবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন, ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতিকে মেশানো উচিত নয়। অলিম্পিক আদর্শ সবার উপরে।’ তাঁর সেই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আমেরিকা বয়কট করেছিল ১৯৮০-র মস্কো অলিম্পিক। সেটা অবশ্য দেখতে হয়নি ওয়েন্সকে। তার আগেই সেই ‘অলিম্পিক ইয়ার’-এ (১৯৮০) ৩১ মার্চ জীবনাবসান হয় জেসি ওয়েন্সের।