দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজপুত্র আর নেই, একটা দিন কেটে গেলেও কেউই যেন বিশ্বাস করতে চাইছে না। মনই মানছে না। কিন্তু কঠিন অথচ বাস্তব সত্য মেনে নিতে হচ্ছে সবাইকে। এরই মধ্যে দিয়েগো মারাদোনাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হাজির হয়েছেন হাজারো মানুষ।
শেষবারের মতো এই ফুটবল জাদুকরকে যাতে ভক্তরা দেখতে পারেন, সেজন্য আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারসের কেন্দ্রে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস কাসা রোসাদায় তিনদিনের জন্য রাখা হবে রাজপুত্রের মরদেহ।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে পৌঁছেছে মারাদোনার নশ্বর দেহ। আগামী তিনদিন কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন ফুটবলপ্রেমীরা।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম বুয়েনস আয়ারস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাসা রোসাদায় দিয়েগোর মরদেহ রাখার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে ব্যবহার না করা ভবনের বিভিন্ন জিনিসপত্র বের করে নিয়ে আসা হয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মারাদোনার মরদেহ রাজধানীর তিগ্রেতে তাঁর বাসভবন থেকে ময়নাতদন্তের জন্য সান ফার্নান্দোর একটি মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার হঠাৎই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০। আর্জেন্টিনার ছিয়াশির বিশ্বকাপজয়ী মহানায়কের এমন আচমকা মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো বিশ্ব।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের বাসভবন কাসা রোসাদায় আপাতত রাখা হয়েছে কিংবদন্তির মৃতদেহ। আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষ সবাই শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে দলে দলে হাজির হয়েছেন কাসা রোসাদায়। যে মানুষটি জীবনভর তাঁদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, আবেগে ভাসিয়েছেন, তাঁকে শেষবারের মতো দেখার জন্য ছুটছেন সবাই।
১১টায় ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর শরীর নিয়ে যাওয়া হয়েছে শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুত করতে। কাল প্রাথমিকভাবে যেটা জানানো হয়েছিল, সেটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। হৃদ্রোগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এটাও জানা গেছে, ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন জাদুকর।
সান ইসিদ্রো অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে জানানো হয়েছে গতকাল স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টায় মারাদোনাকে তাঁর বিছানায় পাওয়া যায়। চিকিৎসক বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ হলেন জাগাতে, তখনই মেনে নিতে হয়েছে সত্যটা।
২০০০ সাল থেকেই নাকি হৃদ্রোগে ভুগছেন তিনি। কিন্তু শরীরের লাগাতার অযত্ন করে গিয়েছেন জীবনের শেষ পর্যন্ত। দিয়েগোকে সর্বশেষ জীবিত অবস্থায় দেখেছেন তাঁর এক আত্মীয়। ২৪ নভেম্বর তিনি শেষবার কথা বলেন ওই আত্মীয়ের সঙ্গে।
মারাদোনাকে একবারই দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল আর্জেন্টাইন সময় রাত দেড়টায়। প্রথমেই মারাদোনাকে দেখে গেছেন প্রথম স্ত্রী ক্লদিয়া ভিয়াফোন ও দুই কন্যা দালমা ও জিয়ানিন্না। মনে করা হচ্ছে, কন্যাদের শোকেই তিনি একা হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে মেয়েরা কেউই দেখা করতে আসতেন না।
কিছুক্ষণ পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যরা এসে শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন। সকাল ৬টায় বিদায় জানাতে কাসা রোসাদার দরজা সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।