দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরও সার্বিক একটা আবেদন ছিল ফুটবলমহলে। তাঁর ফুটবল ঘিরেও ছিল একটা সম্মোহনের মতো জাগতিক ব্যাপার। বলা হতো, দিয়েগো মারাদোনা যেমন ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। তেমনি একইভাবে ১৯৮২ সালে ইতালিকে চ্যাম্পিয়ন করার পিছনে অবদান ছিল পাওলো রোসির।
রোসিকে দেখতেও ছিল রোমান্টিক, ঝাঁকরা ঝাঁকরা চুল, চোখের মনিটা ছিল নীল। স্টাইলিশ ছিলেন মাঠেও। মারাদোনা বিদায়ের দুই সপ্তাহের মধ্যে রোসির চলে যাওয়াও ফুটবল জগতের কাছে মহানক্ষত্রপতন।
তাঁর থেকে অনেক কমবয়সীরা চলে যাচ্ছেন, তিনি দেখছেন ভীস্মের মতোই। ফুটবল সম্রাট পেলেও আবেগাপ্লুত, শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েও লিখছেন, ‘‘পৃথিবী থেকে একটার পর একটা তারা খসে যাচ্ছে। আর আকাশে বাড়ছে নক্ষত্র সমাবেশ।’’
তারপরে রোসি নিয়ে বলতে গিয়ে পেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘‘একবার শুনেছিলাম, তোমার বাবা আমার খেলা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফিওরেন্তিনার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল সেটা। তোমার তখন ১০ বছর বয়স। কী সম্মানের ব্যাপার! তোমার বন্ধুত্ব ও উদারতার জন্য ধন্যবাদ। বন্ধু পাওলো, ঈশ্বর যেন তোমার দু’হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানান।’’
গত বৃহস্পতিবার সকালে পাওলো রোসির স্ত্রী ফেডেরিকা কাপ্পেলেত্তির সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা থেকেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত, যে পাওলো রোসি আর নেই। দীর্ঘদিন ভালবাসার রাজপ্রাসাদে থেকে রোসির স্ত্রী ইতালীয় ভাষায় লিখেছিলেন, ‘‘পের সেম্প্রে’। যার অর্থ, অমর প্রেম। রোসির মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি পরিবারের পক্ষ থেকে। তবে ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, দূরারোগ্য ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি।
ফুটবলমহলের হেন নেই রোসি নিয়ে বার্তা লেখেননি। সবচেয়ে বেশি তাঁকে নিয়ে বার্তা লিখেছেন তাঁরই প্রতিপক্ষরা। প্রাক্তন ফরাসি তারকা মিশেল প্লাতিনি বলেছেন, ‘‘দুরন্ত ফুটবলার ও গোলদাতা ছিলেন রোসি। জুভেন্টাসে এক সঙ্গে তিন মরসুম খেলেছি। সেইসময় সব ট্রফি আমরাই পেতাম। চোটের কারণে বেশিদিন ফুটবল খেলতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন।’’
ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি জিকো জানিয়েছেন, ‘‘শান্তিতে থাকুক আমার ভাল বন্ধু এবং সোনার ছেলে।’’ পাশাপাশি নামী প্রাক্তন জার্মান অধিনায়ক জুরগেন ক্লিন্সম্যান টুইট করেন, ‘‘বন্ধু পাবলিতো, তোমাকে সব সময়ে মনে রাখব। তুমি আমাদের হৃদয়ে থাকবে।’’