দ্য ওয়াল ব্যুরো : এখনও মনে হচ্ছে তিনি আইপিএলের ধারাভাষ্য করছেন। কমেন্ট্রি বক্স গমগম করছে তাঁর সুমধুর কন্ঠস্বরে। সবাই তাঁকে অভিবাদন জানাচ্ছেন, আর বলছেন, ‘‘হাই ডিনো, হাউ আর ইউ? প্লিজ, এক্সপ্লেইন মি দিস ক্রিকেট শট।’’
সবাই তাঁকে ঘিরে এখনও সমান আবেগে ভাসছেন। জলজ্যান্ত মানুষটা বলা নেই কওয়া নেই, চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সবাই এখনও ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এই তো মনে হচ্ছে, ডিন জোনস ধারাভাষ্য দিচ্ছেন, আর বলছেন, ‘‘দিস ইস ম্যাকনিফিসেন্ট শট, ইটস আ গোল্ডেন কামব্যাক...।
তাঁর সতীর্থরা তো বটেই, অকালে এই নামী অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানের চলে যাওয়া যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই। শচীন তেন্ডুলকরের মতো কিংবদন্তিও জোনসের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মাস্টার টুইট করেছেন, ‘‘ওয়ান ডে ক্রিকেটকে এত আকর্ষণীয় করার পিছনে যাঁদের হাত রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ডিন জোনস। তিনি ওয়ান ডে-র এক আদর্শ ব্যাটসম্যান।’’
তবে শুধু ওয়ান ডে নয়, ওই সময়ে যদি টি ২০ ক্রিকেট থাকত, তা হলেও তাঁকে নিয়ে টানাটানি পড়ে যেত, সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শচীন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি শতভাগ নিশ্চিত, বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি তারকাদের মধ্যে একজন হতেন ডিন জোনস। কোনো নিলাম হলে ডিনোকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। অসাধারণ একজন স্ট্রোক প্লেয়ার ছিলেন তিনি, ‘রানিং বিটুইন দ্য উইকেট’-এ দুর্দান্ত। ফিল্ডার হিসেবেও অসাধারণ ছিলেন। একজন আদর্শ টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়ের মধ্যে আপনি যেসব গুণাবলি চান, সবকিছুই ছিল তাঁর।’’
প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের অন্যতম এই সেরা তারকা ৫২টি টেস্ট আর ১৬৪টি ওয়ান ডে খেলে ৯ হাজার ৬৩১ (টেস্টে ৩,৬৩১ আর ওয়ানডেতে ৬০০০) রান তাঁর। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ‘হল অব ফেমে’ স্থান পান জোনস।
সংবাদসংস্থা পিটিআইকে শচীন জানিয়েছেন, ‘‘তিনি যেহেতু ওয়ানডে ক্রিকেটার হিসেবে দুর্দান্ত ছিলেন, সেই কারণে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নিয়ত পরিবর্তনশীল নিয়মকানুনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারতেন বেশ। ক্রিকেটের প্রতিটি সংস্করণই অনন্য, আর আমার মনে হয় ক্রিকেটের সব সংস্করণের সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল তাঁর।’’
এমনকি ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল মহাজ্যোতিষ্ক বিপক্ষ ক্রিকেটার সম্পর্কে আরও শ্রদ্ধাশীলভাবে জানিয়েছেন, দুর্দান্ত এক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হতে পারতেন ডিনি। আশি বা নব্বইয়ের দশকে তিনি যেমন ক্রিকেটই খেলুন না কেন, তা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। তখনই ফাস্ট বোলারদের নিয়মিত মেরে খেলতে পারতেন। আমরা এখন সৃষ্টিশীল শটের কথা আলোচনা করি, তবে এটা মাথায় রাখতে হবে, এখন অপরিচিত যেসব শট ব্যাটসম্যানরা খেলে, তা অনেক আগে কেউ না কেউ খেলে গিয়েছিল। আর ডিন জোনস তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন।’’
ছোটবেলায় জোনসের খেলার অনুরাগী ছিলেন শচীন, সেই কথাও জোর দিয়ে বলেছেন। মাস্টার বলেছেন, ‘‘অস্বীকার করব না, ডিনো যখন খেলতেন, টিভি সেটের সঙ্গে চোখ সেঁটে থাকত। ডিনো ব্যাটিং করলে সেটা মিস করতে চাইতাম না। তিনি হেলমেট না পরেই ব্যাট করতেন, দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতাম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাঁর অবদান অসামান্য তো বটেই, রীতিমতো আনন্দ দিয়ে গেছেন সবাইকে।’’