দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা গ্যালারি নিস্তব্ধ, যেন পিন পড়লেও আওয়াজ শোনা যাবে। তারপর ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনকে নিয়ে যখন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন চিকিৎসা কর্মীরা। সেইসময় সারা গ্যালারি জুড়ে একটাই আওয়াজ, ‘ক্রিশ্চিয়ান’, অন্যদিকে ডেনমার্ক গ্যালারি চিৎকার করছে, ‘এরিকসেন’।
ফুটবল মানবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন দেখা গিয়েছে শনিবার কোপেনহেগেনে। কোন দল ঘরের, কারা বিপক্ষ, সে বিষয়গুলি গৌন ছিল, বরং সবাই একে অপরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এরিকসেন পরিবারের পাশে ছিল।
খেলার ৪১ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে, তারপর খেলাই স্থগিত হয়ে যায়। ম্যাচটি পরে শুরু হয়, কিন্তু ড্যানিশ ফুটবলাররা মানসিকভাবে এতটাই দমে গিয়েছিলেন, তাঁরা পেনাল্টি মিস করেন। খেলাটিতেও হার মানে ০-১ গোলে।
যদিও এরিকসেন কেমন রয়েছেন, সেটাই ডেনমার্ক ফুটবলাররা খেলা শেষে জানতে চেয়েছেন। তাঁদের কাছে ম্যাচ হারের চেয়ে বন্ধুর প্রতি সহমর্মিতাই বেশি করে দেখা গিয়েছে।
ডেনমার্কের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এদিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এরিকসেনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে আরও গভীর পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে কোপেনহেগেনের হাসপাতালে রাখা হয়েছে। টুইটারে লিখেছে, ‘‘আজ সকালে আমরা ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের সঙ্গে কথা বলেছি। সেইসময় তাঁর স্ত্রী সাব্রিনাও ছিল। সতীর্থদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর অবস্থা ভাল এবং আরও কিছু পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।’’
https://twitter.com/DBUfodbold/status/1403996840287215616
ঘটনার পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় এরিকসেনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আড়াল সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেটাও করা হয় ফিনল্যান্ডের সমর্থকদের দেওয়া তাঁদের দেশের দুটি পতাকা দিয়ে।
https://twitter.com/JonasHoyBruun/status/1403770294574227456
ড্যানিশ ফুটবলের পক্ষ থেকে এই ভালবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে, ‘‘জাতীয় দলের সব সদস্য ও স্টাফকে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং গতকালের ঘটনার পর থেকে একে অপরকে এভাবেই সহযোগিতা করা হবে। সমর্থক, খেলোয়াড়, ডেনমার্ক ও ইংল্যান্ডের রাজপরিবার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ক্লাবের পক্ষ থেকে যাঁরা সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই আমরা।’’