দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতদিনও হয়নি টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় অ্যাথলিটদের কিটস স্পনসর হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় চিনা সংস্থা লি নিংয়ের নাম। ব্যস, তারপরেই বিতর্ক শুরু। যে চিনের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে, সেই অবস্থায় কী করে তাদের সংস্থার জার্সি অ্যাথলিটরা পরতে পারে।
এই নিয়ে ভারতীয় ক্রীড়ামহলে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। এমনকি দিল্লিতে এই নিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজেজুর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। মন্ত্রকের অনুমতি নিয়েই ক্রীড়ামন্ত্রী চিনা সংস্থার সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করলেন।
ভারতীয়দের চিনা দ্রব্য বর্জন নিয়ে বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও অলিম্পিকের মত এত বড় ইভেন্টে ভারত কীভাবে ভারতীয় অ্যাথলিটদের পোশাক স্পনসর করার দায়িত্ব দিল ওই চিনের সংস্থাকে, সেই নিয়ে চরম বিতর্ক হয়েছে।
ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা নরিন্দর বাত্রা ও মহাসচিব রাজীব মেহতা বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, ‘‘আমরা আমাদের সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে অবগত ছিলাম। সেই জন্য আইওএ-র তরফ থেকে বর্তমান পোশাক প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে আমরা চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের অ্যাথলিট, কোচ, সাপোর্ট স্টাফদের পোশাকে কোনও স্পনসরের লোগো থাকছে না। ক্রীড়ামন্ত্রীও এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের উচ্চমহলে কথা বলেছিলেন। সব বুঝেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’
আইওএ প্রধান নরিন্দর আরও বলেছেন, “আমি কোনও সংস্থার বা কারও নাম নেব না, বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জনসাধারণের অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
চিনের স্পনসরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, ইতিমধ্যেই ভারতীয় দলের নতুন স্পনসরের খোঁজ করতে শুরু করে দিয়েছেন কর্তারা।
ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার শীর্ষ কর্তা আরও বলেছেন, “আমাদের হাতে সময় বেশি নেই। কোনও সংস্থাকে আমরা জোর করতে চাই না। সেরকম হলে আমাদের অ্যাথলিটদের জার্সিতে কোনওরকম লোগো থাকবে না। তবে কোনও সংস্থা যদি এগিয়ে আসে, তাদের আমরা ফেরাব না।’’