দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ছন্দেই রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। নিজেদের ম্যাচে জিতেছে দু’দেশই। ব্রাজিলের জয়ে প্রধান ভূমিকা নিয়েছেন ওয়ান্ডার কিড নেমার জুনিয়র। তাঁর হ্যাটট্রিকে ভর করেই পেরুকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে আবার বিশ্বের উচ্চতম ফুটবলা স্টেডিয়াম লা পাজে কঠিন প্রতিপক্ষ বলিভিয়াকে হারাল আর্জেন্টিনা। এর ফলেই গ্রুপের শীর্ষে এই মুহুর্তে দুই দল। সমান পয়েন্ট মেসি-নেমারদের।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুটা ভালই করেছিল পেরু। ৬ মিনিটের মাথায় টপ বক্লস থেকে ডান পায়ের দুরন্ত ভলিতে গোল করে পেরুকে এগিয়ে দেন আন্দ্রে ক্যারিলো। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পরে এদিন ফের গোল করেন তিনি। কিন্তু গোল খাওয়ার পরেই ম্যাচে ফেরে ব্রাজিল। তাদের পাসিং ফুটবলের ঝলক দেখা যায়। বক্সের মধ্যে নেমারকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। ঠান্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফেরান নেমার।
দ্বিতীয়ার্ধে ফের ৫৯ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় পেরু। রেনাতো তাপিয়ার শট ডিফেন্ডার রদ্রিগোর গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। যদিও ৫ মিনিট পরে ফের ব্রাজিলকে খেলায় ফেরান রিচার্লিসন। তারপর আর আটকানো যায়নি ব্রাজিলকে। ফের একবার পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন নেমার। ইনজুরি টাইমে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নেমার। ৪-২ গোলে ম্যাচে জেতে ব্রাজিল।
অন্যদিকে লড়াইটা আরও কঠিন ছিল মেসিদের জন্য। ২০০৫ সালের পর থেকে বলিভিয়ায় গিয়ে জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। ২০০৯ সালে এই মাঠে ১-৬ গোলে লজ্জার হার হয়েছিল মেসিদের। ২০১৭ সালেও ০-২ গোলে হারতে হয় মেসিদের। এদিনও শুরুটা খানিকটা তেমনই হয়েছিল। ২৪ মিনিটের মাথায় মার্সেলো মার্টিন্স গোল করে এগিয়ে দেন বলিভিয়াকে।
দেখে মনে হচ্ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচুতে আবার হারের মুখ দেখতে হবে মেসিদের। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বলিভিয়ার ডিফেন্ডার ক্যারাসকো একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার মার্টিনেজের পায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। ভাগ্যের জোরে ম্যাচে ফেরেন মেসিরা।
দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ ড্র হবে। এই ম্যাচে ১ পয়েন্ট পেলেও খুব একটা হতাশ হতেন না মেসিরা। কিন্তু ফের একটা ডিফেন্সিভ ভুলের খেসারত দিতে হল বলিভিয়াকে। ৭৯ মিনিটের মাথায় বক্সের মাথায় মার্টিনেজের উদ্দেশে বল বাড়ান মেসি। ঠান্ডা মাথায় সেই বল কোরেয়াকে দেন মার্টিনেজ। বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে দেন কোরেয়া।
খেলার শেষে মেসি বলেন, “এই উচ্চতায় জয় পাওয়া সত্যিই খুব আনন্দের। এখনও অনেক পথ যাওয়া বাকি। যোগ্যতা অর্জন পর্ব সবে শুরু হয়েছে। দুটো জয় পেয়ে আমরা খুব খুশি।”
মঙ্গলবার অন্য খেলায় কলম্বিয়ার সঙ্গে ২-২ ড্র করেছে চিলি। উরুগুয়ে আবার ২-৪ গোলে ইকুয়েডরের কাছে হেরেছে। প্যারাগুয়ে ১-০ গোলে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছে। অর্থাৎ এখনও অবধি ১০০ শতাংশ জয়ের রেকর্ড ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। যদিও গোল পার্থক্যে আর্জেন্টিনার উপরে রয়েছে ব্রাজিল।