দ্য ওয়াল ব্যুরো: এত বিশাল স্কোর ছিল সামনে ভারতের কাছে কিছু করার ছিল না। তবুও সফরের শুরুতে মন্দ লড়লেন না ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে ওপেনার শিখর ধাওয়ান (৮৬ বলে ৭৪) এবং অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া (৭৬ বলে ৯০)।
হার্দিক যতক্ষণ ছিলেন, মনে হয়েছে ভারত জিতলেও জিততে পারে। কিন্তু তাঁকে গুগলি স্পেশালিস্ট অ্যাডাম জাম্পা তুলে নিতেই দৌড় শেষ কোহলির দলের। অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৬৬ রানো । অজিদের ৩৭৪/৬-র বিনিময়ে ভারত করতে পেরেছে শেষমেশ ৩০৮/৮। সিরিজে ১-০ –তে এগিয়ে গেল ঘরের দল।
অন্য ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন ২২ রানে। বিরাট কোহলিও আউট হলেন ২০ রানের মাথায়। দুইজনকেই ফেরালেন হ্যাজেলউড। শ্রেয়স (২), লোকেশ রাহুল (১২) রান পাননি। কেন রাহুলকে ওপেনিংয়ের বদলে পাঁচে পাঠানো হল, বিষয়টি অবাক করার মতোই।
এই ব্যর্থতার মিছিলের মধ্যে হার্দিক ও শিখর দলকে টেনেছেন। হার্দিক তো অসাধারণ খেলেছেন, সাতটি চার, ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন চারটি। তাঁরা ফিরতে জাদেজা (২৫), নভদীপ সাইনি (২৯) ভাল খেলেছেন ঠিকই, কিন্তু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
বরং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মতোই বোলিংও দারুণ হয়েছে। স্পিনার জাম্পা চার উইকেট পেয়েছেন ৫৪ রানে, আর হ্যাজেলউডের শিকার তিনটি ৫৫ রানে।
আইপিএল আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তফাতটা ঠিক কোথায় তা সিডনিতে প্রথম ম্যাচেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। আইপিএলে ব্যাট থেকে রান আসেনি ফিঞ্চ, ম্যাক্সওয়েলের। দু-একটা ম্যাচ ছাড়া ব্যর্থ স্টিভ স্মিথও। অথচ এই তিনজনই রান পেলেন ভারতের বিরুদ্ধ। সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ওয়ার্নার তো রয়েছেনই। আইপিএলে চূড়ান্ত সফল বুমরাহ, চাহালদের পাড়ার বোলারের পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন তাঁরা। প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৭৪ রান তুলল অস্ট্রেলিয়া।
সিডনিতে প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক ফিঞ্চ। শুরুটাও সেভাবেই করলেন তাঁরা। ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইনিংস গড়লেন। একবার সেট হয়ে যাওয়ার পর হাত খোলা শুরু করলেন। প্রথম উইকেটে ১৫৬ রানের পার্টনারশিপ গড়লেন তাঁরা। ৬৯ রানে ওয়ার্নার আউট হলেও নিজের খেলা চালিয়ে গেলেন ফিঞ্চ। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে থামল তাঁর ইনিংস।
কিন্তু দলকে বড় রানের দিকে নিয়ে গেলেন স্মিথ ও ম্যাক্সওয়েল। নিজের নামের প্রতি সুনাম করে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেললেন বিগ শো ম্যাক্সওয়েল। অন্যদিকে প্রথম থেকেই সাবলীল দেখাচ্ছিল স্মিথকে। একবার ৫০ করার পরে শুধু বড় শট মেরে গেলেন। মাত্র ৬২ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন তিনি। শেষ ওভারে ১০৫ রানের মাথায় শামির বলে আউট হন স্মিথ।
চলতি সিরিজে ভারত ১৯৯২ সালের রেট্রো জার্সির আদলে জার্সি পরে খেলছে। তাই হয়তো ফিল্ডিংটাও নেমে গেল সেই নব্বইয়ের দশকেই। অজস্র মিস ফিল্ডিং, ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হল কোহলিদের। সেইসঙ্গে ঠিকমতো লেম্থে বল ফেলতেই পারলেন না বুমরাহ, সাইনি, চাহালরা। বুমরাহ ১০ ওভারে ৭৩, সাইনি ১০ ওভারে ৮৩ ও চাহাল ১০ ওভারে ৮৯ রান দিলেন। জাদেজা ৬৩ রান দিলেও উইকেট পাননি। একমাত্র সফল বোলার মহম্মদ শামি। ১০ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।