দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেই তো দারুণ ব্যাটিং করে ভারতের সামনে বিশাল রানের পাহাড় সামনে রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। তারপর ফিল্ডিং ইনিংসে যেভাবে দুটি ক্যাচ নিয়েছে অজিরা, তাতেই খেলার ফয়সালা হয়ে গিয়েছে।
আবার হার ভারতের এবং ওয়ান ডে সিরিজেও হার। অস্ট্রেলিয়ার ৩৮৯/৪-র জবাবে ভারত শেষমেশ করতে পেরেছে ৩৩৮/৯। ৫১ রানে পরাজয় কোহলিদের।
আইপিএল শেষ করে দেশে ফিরে সিরিজের আগে স্টিভ স্মিথ নেটে ভাল ব্যাটিং করছিলেন। জানিয়েছিলেন, ঠিক জায়গায় বল ব্যাটে লাগছে, আমার মনে হয় ভারতের বিপক্ষে আমি সফলই হব।
সেটাই দুটি ম্যাচে বোঝালেন স্মিথ, আর সঙ্গে ডেভিড ওয়ার্নার যে খেলছেন, সেক্ষেত্রে বাকি সিরিজেও ভারতের সমস্যা হবে।
অজিদের ফিল্ডিংয়ের মান দেখে বলতেই হবে তারা যোগ্য দল হিসেবে সিরিজ জিতেছে। ব্যাটিং তো ভাল করেছেই, উপরন্তু বিরাট কোহলিকে ৮৯ রানে ফেরানোর মূলে হেনরিকসের দারুণ ক্যাচ। বোলার ছিলেন হ্যাজেলউড। কোহলির ৮৯ রান এসেছে ৮৭ বলে, যার মধ্যে দুটি ছয় ও সাতটি চার রয়েছে।
কোহলি ও শ্রেয়স আইয়ার (৩৬ বলে ৩৮) যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন, মনে হচ্ছিল ভারত শেষ অবদি টানবে। কিন্তু ওরকম ক্যাচ লুফলে বিপক্ষ দলের কিছু করার থাকে না, ভারতই তার প্রমাণ। তারপরে লোকেশ রাহুল (৬৬ বলে ৭৬), তার মধ্যে মেরেছেন চারটি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা।
এদিনও রাহুলকে ওপেন করতে না পাঠিয়ে পাঁচে পাঠানো হয়েছে। রাহুল ইনিংস শুরু করলে জেতানোর জন্য অনেক সময় পাবে। মায়াঙ্ক (২৮) ও শিখর ধাওয়ান (৩০) খারাপ শুরু করেননি, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং দারুণ কার্যকরি ভূমিকা নিয়েছে।
শেষদিকে হার্দিক (৩১ বলে ২৮) ও রবিন্দর জাদেজা (১১ বলে ২৪) ইনিংস টানলেও অত রান তোলা সম্ভবই ছিল না। অজি বোলারদের পক্ষে কামিন্স তিনটি ও জাম্পা ও হ্যাজেজউড একটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন।
দু’দিন আগের সিডনিই যেন ফের ফিরে এল আজ। ফের টসে জিতে ব্যাট নিলেন ফিঞ্চ। ফের ওপেনিং জুটিতে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ। ফের তিন নম্বরে এসে দুরন্ত সেঞ্চুরি স্মিথের। ফের একবার দেখা গেল ম্যাক্সওয়েলের তাণ্ডব। তাতে এবার যোগ দিলেন লাবুশানেও। টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানই হাফ সেঞ্চুরি টপকালেন। ফের একবার বেধড়ক মার খেলেন ভারতীয় বোলাররা। আর সব মিলিয়ে আগের দিনের রানকেও খানিকটা ছাপিয়ে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ৩৮৯ রান তুলল অস্ট্রেলিয়া।
রবিবারও শুরু থেকে আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ওয়ার্নার ও ফিঞ্চকে। এদিন ফিঞ্চের থেকেও বেশি চালিয়ে খেলছিলেন ওয়ার্নার। ফের একবার সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করলেন তাঁরা। যদিও ৬০ রানের মাথায় ফিঞ্চের উইকেট প্রথম ধাক্কা দেয় অজি দলে। ৮৩ রানের মাথায় ওয়ার্নার রানআউট হওয়ায় সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় তাঁর।
কিন্তু স্মিথ যেন আগের দিন যেখানে ছেড়েছিলেন আজ সেখান থেকেই ধরলেন। সেই একই মেজাজে ব্যাট করলেন তিনি। কাউকে রেয়াত করলেন না। চারের বন্যা বইয়ে দিলেন এসসিজিতে। শেষ অবধি ১৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৬৪ বলে ১০৪ রান করে আউট হলেন তিনি।
নিজের ফর্ম ধরে রাখলেন ম্যাক্সওয়েলও। এদিন হাফসেঞ্চুরি এল লাবুশানের ব্যাট থেকেও। তিনি ৭০ করেন। ম্যাক্সওয়েল ঝোড়ো ব্যাটিং করে ২৯ বলে ৬৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৮৯ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কেউই তেমন ভাল করতে পারেননি। বুমরাহ, সাইনি ও চাহাল এদিনও রান দিলেন। আগের দিন কিছুটা ভাল বল করেছিলেন মহম্মদ শামি। কিন্তু তিনিও এদিন ফ্লপ। সব মিলিয়ে প্রথম দুই ম্যাচে একই ছবি দেখা গেল প্রথমার্ধে।
ভারতের ব্যাটিং ইনিংসে লড়াই ছিল। একপেশে হয়ত খেলা হয়নি, কিন্তু ঘরের দলের এত রান, দারুণ বোলিং ও অনবদ্য ফিল্ডিংয়ের কাছে ভারতকে আত্মসমপর্ন করতে হয়েছে।