ইংলিশ ফুটবলের কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শে চিকিৎসা আনোয়ারের, প্রয়োজনে যেতে পারেন লন্ডনেও
দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে দেশের কোনও ক্রিকেটারকে চোটের অস্ত্রোপচার করাতে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। শচীন তেন্ডুলকারের টেনিস এলবো সারাতে তাঁকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছিল ডাঃ অ্যান্ড্রু ওয়ালেসের কাছে। জাহির খ
শেষ আপডেট: 14 October 2020 06:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে দেশের কোনও ক্রিকেটারকে চোটের অস্ত্রোপচার করাতে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। শচীন তেন্ডুলকারের টেনিস এলবো সারাতে তাঁকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছিল ডাঃ অ্যান্ড্রু ওয়ালেসের কাছে। জাহির খানকে একবার পাঠানো হয়েছিল স্কটল্যান্ডে। হালফিলের মধ্যে হার্দিক পান্ডিয়াকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে চিকিৎসা করিয়ে তাঁকে চোটমুক্ত করা হয়েছে।
ভারতীয় ফুটবলে এমন দৃষ্টান্ত খুবই কম। দেশের কোনও ফুটবলারের চোট সারাতে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হবে, এমন ভাবনাই দেশের ফুটবল কর্তাদের কোনওদিন আসেনি। তাঁরা বড় জোর মুম্বইয়ের নামী শল্যবিদ ডাঃ অনন্ত যোশীর কাছে পাঠিয়েছেন তাঁর পরামর্শের জন্য।
এবার চাকাটা একটু হলেও ঘুরেছে। ভারতীয় ফুটবলের উদীয়মান তারকা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলিকে চিকিৎসা করানোর জন্য তাঁকে লন্ডনে পাঠানো হতে পারে। এই আনোয়ারকে এবার মহামেডান স্পোর্টিং সই করিয়েছিল। কিন্তু আনোয়ারকে খেলানোর বিষয়ে ঝুঁকি নিতে পারেনি। কারণ অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ দলের অন্যতম এই তারকার হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। ডাক্তারি পরিভাষায় এই রোগটির নাম হাইপারথ্রোপিক কার্ডিওমিয়োপ্যাথি, সংক্ষেপে HCM।
ফুটবলারদের এমন রোগ সচরাচর দেখা যায় না। হৃদযন্ত্রের পেশি আচমকা অনেকটা সংকুচিত হয়ে যায়, তাতে করে শ্বাসক্রিয়ায় সমস্যা দেখা যায়। এটা যদি কোনও কারণে খেলতে খেলতে মাঠে হলে তাঁর জীবন সংশয় ঘটতে পারে। ফেডারেশন সেই বিষয়ে মহামেডানকে ইমেল করে জানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আনোয়ারের পরিবার শুরু থেকে বলছিল, তাদের ছেলের এমন কোনও সমস্যা থাকলেও সেটি খেলার পক্ষে কোনও সমস্যাই নয়। এমনকি তারা দিল্লি আদালতেও যায় খেলার পক্ষে ন্যায় বিচার চেয়ে। সেই মামলার শুনানি ২০ অক্টোবরে।
যদিও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) তারা এই বিষয়টি হস্তক্ষেপ করতে বলে এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি)। এশীয় ফুটবল সংস্থার আধিকারিকরাও ইমেল করে ফেডারেশনকে জানায়, কোনওভাবেই যাতে আনোয়ারকে কোনও ক্লাব জোরদার অনুশীলন কিংবা ৯০ মিনিট টানা ম্যাচ না খেলায়। তাতে ২০ বছরের ডিফেন্ডারের জীবন সংশয় ঘটতে পারে, সেই বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছিল।
এমনকি এএফসি ও ফেডারেশন উদ্যোগ নিয়ে তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট সঞ্জয় শর্মার সঙ্গেও। তিনি গত রবিবার এআইএফএফ-র মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন এই বিষয়টি নিয়ে। সেই বৈঠকে তিনি লিখিত আকারে বুঝিয়ে দিয়েছেন আনোয়ারের ঠিক কোথায় সমস্যা। তিনি ওই রিপোর্ট এএফসি-কেও পাঠাবেন।
এমনকি ওই নামী চিকিৎসক বলেছেন, ভারতে যা তাপমাত্রা তাতে এই গরমে মাত্রাতিরিক্ত অনুশীলন করলে আনোয়ারের সমস্যা হতে পারে। প্রসঙ্গত, এই চিকিৎসক লন্ডন অলিম্পিকের মেডিকেল কমিটির শীর্ষে ছিলেন। তিনি আবার লন্ডন ম্যারাথনেরও মুখ্য চিকিৎসক ছিলেন।
প্রয়োজনে ফেডারেশন আনোয়ারের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারের জন্য তাঁকে লন্ডনে চিকিৎসা করানোর কথাও ভাবছে। সেই নিয়ে ফেডারেশনের সিনিয়র সহ সভাপতি সুব্রত দত্ত জানান, ‘‘লন্ডনে পাঠানোর বিষয়টি ভাবনার স্তরে রয়েছে, তবে ডাঃ শর্মা বিস্তারিত কী রিপোর্ট দেন, সেটি দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’’
আনোয়ারের এই বিষয়টি নিয়ে অবশ্য ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন মিনার্ভা পাঞ্জাব দলের কর্ণধার রঞ্জিত বাজাজ। তিনি ট্যুইটে লিখেছেন, আনোয়ারের যা সমস্যা তাতে মাঠে জীবন সংশয়ের মাত্র ১ শতাংশ সুযোগ রয়েছে। সেই কথা ভেবে একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের ভবিষৎ নষ্ট করার কোনও অধিকার ফেডারেশনের নেই। তাকে মাঠে ফেরার অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে করে আনোয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টুর্নামেন্টগুলি খেলতে পারে।
যদিও ফেডারেশন নাছোড় এই প্রসঙ্গে। তারা এমন কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না যাতে করে মাঠে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেলে তার দায়ভার তাদের ওপর পড়ে। তাই তারা ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসকের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে। তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।