দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল, অবশেষে দিনের আলো দেখতে চলেছে রাজ্য সরকারের টেবল টেনিস অ্যাকাডেমি (table tennis academy)। বুধবার পানাগড়ে এই অ্যাকাডেমির ভার্চুয়াল সূচনা ঘটিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee)। তিনি এও বলেছেন, এই অ্যাকাডেমির দায়িত্বে থাকবেন টিটি দম্পতি অলিম্পিয়ান (olympian) সৌম্যদীপ রায় (soumyadeep roy) ও তাঁর স্ত্রী অর্জুন পৌলমী ঘটক (poulami ghatak)।
একটা সময় বাংলা ছিল টেবল টেনিসের আঁতুড়ঘর। শিলিগুড়ি ছিল টেবল টেনিস শহর। কিন্তু ক্রমে বাংলার টি টি কর্তাদের দলাদলিতে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন আর সেই স্তরের প্রতিভা উঠে আসছে না। তারপর রাজ্য সরকার সেইভাবে খেলোয়াড়দের সুবিধে দিতে না পারার কারণে অনেকেই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী চাইছিলেন ফের টিটি ঘিরে উন্মাদনা আসুক বাংলায়।
আরও পড়ুন: এ কী হাল হয়েছে আক্রমের! ছবি দেখে তাজ্জব সবাই, উপচে পড়ছে মন্তব্যের বন্যায়
এই অ্যাকাডেমি করা হলেও সব ক্ষমতা কেন একটি নির্দিষ্ঠ পরিবারের হাতে, সেই প্রশ্নও উঠছে। সৌম্যদীপ ও পৌলমী ছাড়াও অনেকেই টিটিতে নামী তারকা কিংবা কোচ, কেন তাঁদের এক ছাতার তলায় আনা গেল না, সেই নিয়েও বিতর্ক দেখা গিয়েছে। নাম প্রকাশে এক অনিচ্ছুক এক জাতীয় চ্যাম্পিয়নও বলছেন, ‘‘যেহেতু ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছের লোক, তাই ওঁদের দায়িত্ব দেওয়া হল, তার মানে আর কেউ যোগ্য নেই, এটাতেই তো প্রমাণ মিলছে! ওঁরা ছাড়া কেউ কি টি টি বোঝেন না?’’
এসব অবশ্য গায়ে মাখছেন না পৌলমী, তিনি জানালেন, ‘‘এইসব কথায় আমি কান দেব না, কোনও মন্তব্যও করব না। দিদি আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, তার প্রমাণ আমরা এর থেকে খেলোয়াড় তুলে তবেই কথা বলব, তার আগে নয়।’’
পৌলমীর মতো তাঁর স্বামী প্রাক্তন জাতীয় সেরা সৌম্যদীপও জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের মু্খ্যমন্ত্রী চান বাংলা থেকে কেউ অলিম্পিকে টেবল টেনিস পদক নিয়ে আসুক, আমাদের অ্যাকাডেমির লক্ষ্যও থাকবে তাই। আমরা সেইভাবেই প্রতিভা বাছাই করব।’’
মোট ২৫টি টি টি বোর্ড থাকবে এই অ্যাকাডেমিতে। নামমাত্র খরচে যাতে বাংলার প্রতিভাবানরা এখানে সুযোগ পান, সেটি দেখা হবে। বাংলায় বহু টি টি অ্যাকাডেমি থাকলেও তাতে মধ্যবিত্তদের ক্ষমতা নেই ভর্তি হওয়ার। এই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সর্বত্রই।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'