যন্ত্রণা ভুলতে প্রিয় ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছায় সাময়িক নির্বাসন নেন স্টিভ স্মিথ। দূরত্ব অনেক সময় ক্ষতের উপশম ঘটায়। ইয়ানিক সিনার যদিও এই তত্ত্বে পুরোপুরি বিশ্বাসী নন।

স্মিথ ও সিনার
শেষ আপডেট: 15 June 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমস্যা এক। সমাধান দুটো।
সমস্যার নাম ‘পরাজয়’। ভেঙে বললে, ব্যর্থতার জ্বালা ভুলতে চাওয়া। আর তার জন্য প্রথম টোটকা বাতলেছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মহম্মদ সামির নির্বিষ, লোপ্পা ফুলটস মিস করে ক্লিন বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন অজি ব্যাটসম্যান। সেই ম্যাচ হারতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। ফাইনালে ওঠে ভারত। জিতে নেয় ট্রফিও! আর তারপর সেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ভুলতে নিজেকে ক্রিকেট থেকে একদম সরিয়ে নেন স্মিথ। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, বিগত কয়েক মাস ধরে ম্যাচ ফিট থাকার জন্য স্রেফ শরীরী কসরত চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ব্যাট? উঁহু… ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেননি!
কাট টু। এবার মঞ্চ আলাদা। খেলার নাম, ধরন—সবকিছু বদলে গিয়েছে। কিন্তু দ্বৈরথে জয়-পরাজয়ের অঙ্ক তো বদলায় না। সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছেও বুকভাঙা যন্ত্রণা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।
আর সেই বেদনাই কয়েক দিন ধরে অস্থির করে তুলেছে ইয়ানিক সিনারকে। বিশ্বটেনিসের পয়লা নম্বর খেলোয়াড়। অথচ মাত খেয়েছেন কার্লোস আলকারাজের হাতে। তাও জয় যখন নাগালে, ঠিক তখনই ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ তাঁর থেকে কেড়ে নেন স্পেনের তারকা। জেতেন ফরাসি ওপেন।
প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর কীভাবে ধাতস্থ করেছেন নিজেকে? ইতালির প্রতিভাবান টেনিস খেলোয়ায়ড়ের মতে, কাজটা সহজ ছিল না। অনেক বিনিদ্র রাত কাটাতে হয়েছে। তারপর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশে পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
সিনার বলেন, ‘প্রতিদিন ধীরে ধীরে সবকিছু ভাল হতে শুরু করে। টেনিস আমার কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরিবারের চেয়ে নয়। আমি এখনও ওই ম্যাচের কথা ভেবে যাই।‘
যন্ত্রণা ভুলতে প্রিয় ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছায় সাময়িক নির্বাসন নেন স্টিভ স্মিথ। দূরত্ব অনেক সময় ক্ষতের উপশম ঘটায়। ইয়ানিক সিনার যদিও এই তত্ত্বে পুরোপুরি বিশ্বাসী নন। র্যাকেট হাতে কোর্টে নামার হালত না ফিরলেও অল্প অল্প করে নিজেকে গোছানোর চেষ্টা করছেন। আর তাই বেছে নিয়েছেন টেবিল টেনিসের ব্যাট, পিং পং বল। সিনার বলেছেন, ‘পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ কাজ ও হাসি-মজা করে বেশ কয়েক দিন কাটিয়েছি। খেলেছি পিংপং। আমার মতে, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে এই ধরনের কাজ করে চলাটা জরুরি।‘
তাহলে আপনি কোন পক্ষে? ব্যর্থতার মুহূর্তে পরিচিত দুনিয়া থেকে নিজেকে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও সরিয়ে নেন? নাকি সেই ধরনের অন্য কাজ অল্প অল্প করে নিজেকে ফের লড়াইয়ের মঞ্চে ফিরে আনেন?