Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'আইপিএলের বাতিল ক্রিকেটাররাই পিএসএলে আসে!’ বোমা ফাটালেন খোদ পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকাহরমুজ বাধা টপকে গুজরাতে ভারতীয় জাহাজ! ট্রাম্পের অবরোধের মাঝেই স্বস্তি ফেরাল ‘জাগ বিক্রম’হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ! মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি বিজেপির‘১৫ বছরের অচলাবস্থা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ!’ নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় তৃণমূল সরকারকে তোপ মোদীরঅভিষেক পত্নীকে টার্গেট করছে কমিশন! হোয়াটসঅ্যাপে চলছে নেতাদের হেনস্থার ছক? সরাসরি কমিশনকে চিঠি তৃণমূলেরIPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিক

তুলনা অন্তহীন! তবু কার্লোস আলকারাজকে কোনওভাবেই রাফায়েল নাদালের ‘উত্তরসূরী’ বলা যাবে না

জোকোভিচের কথায়, ‘জীবনে এমন খেলোয়াড় দেখিনি। রজার কিংবা রাফার শক্তি, দুর্বলতা ছিল। কিন্তু কার্লোস অবিশ্বাস্য! আমি বলব, আমাদের তিনজনের সেরা খেলা মিশিয়ে ও নিজেকে তৈরি করেছে।‘

তুলনা অন্তহীন! তবু কার্লোস আলকারাজকে কোনওভাবেই রাফায়েল নাদালের ‘উত্তরসূরী’ বলা যাবে না

নাদাল ও আলকারাজ

শেষ আপডেট: 10 June 2025 13:25

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তুলনার কমতি নেই। দুজনই স্পেনীয়। দুজনেই রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক। ফরাসি ওপেনের ক্লে কোর্ট প্রিয় বধ্যভূমি। বছর বাইশে ‘নায়ক’ পাঁচখানা গ্র্যান্ড স্ল্যাম (Grand Slam) দখল করেছিলেন। আর তাঁর সুযোগ্য ভাবশিষ্যও একই পথের পথিক। একই বয়সে সমসংখ্যক গ্র্যান্ড স্ল্যাম হাতে তুলেছেন।

খাতায়-কলমে হিসেব, রেকর্ড, ইতিহাস, পরিসংখ্যান এক জিনিস। আর কাজে করে দেখানো আরেক। না হয় খেতাবের সংখ্যা, পছন্দের তালিকায় মিল থাকল। কিন্তু খেলার ধরন? কোর্টে মুভমেন্ট? মানসিক স্থৈর্য? সংযম? এগুলো কতদূর এক? আদৌ মিল আছে কী?

টেনিস সমর্থকেরা বলবেন; ‘আছে’। সমর্থন জানাবে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ। কিন্তু তাঁরাই পাশাপাশি স্বীকার করছেন: উদীয়মান তারকা নিকোলাস আলকারাজকে কোনওভাবেই রাফায়েল নাদালের (Rafael Nadal) পঙক্তিতে ফেলা যায় না! এটা কাউকে বড়, কাউকে ছোট করে দেখানো নয়—শৈলীগত দৃষ্টিতেই দুজনে আলাদা, এক্কেবারে পৃথক!

যদিও ইয়ানিক সিনারকে (Jannik Sinner) হারিয়ে উৎফুল্ল আলকারাজ (Carlos Alcaraz) যা বলেছেন, তাতে ‘তুলনা’র তত্ত্বই উস্কে উঠেছে। বাইশ বছরে নাদাল জিতেছিলেন পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। সেই রেকর্ড স্পর্শ করামাত্র স্পেনীয় তারকা বলে দেন, ‘এই পরিসংখ্যান আমি চিরকাল মনে রাখব। রাফা আমার নায়ক, আমার অনুপ্রেরণা। এটা বিরাট সম্মান।‘

কিন্তু তাতেও বিশেষজ্ঞদের মন গলেনি। হার-না-মানা জেদ, অকুতোভয় মানসিকতা, সবসময় শিখর ছোঁয়ার বাসনা, আন্ডারডগ থেকে চ্যাম্পিয়নকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার স্পর্ধা দুজনকে একাসনে বসিয়েছে ঠিকই। কিন্তু আলকারাজ আর নাদালকে আলাদা করেছে ‘সময়’।

রাফা যে জমানায় কোর্টে পা রাখেন, সাম্প্রাস-আগাসির যুগ তখন অস্তমিত। উঠে আসছেন রজার ফেডেরার, তাঁর নিজস্ব খেলার ধরন নিয়ে। যাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ধারাভাষ্যকারেরা ‘নান্দনিক’, ‘আভিজাত্যে’র মতো সুখশ্রাব্য বিশেষণ প্রয়োগ করে চলেছেন। একে একে সমস্ত মঞ্চে জয়রথ এগিয়ে চলেছে। বাকি শুধু ফরাসি ওপেন। সবাই ধরেই নিয়েছিল সুড়কির কোর্টেও একইভাবে প্রভাব ছড়াবেন সুইস তারকা।

কিন্তু তখনই রাফায়েল নাদালের আকস্মাৎ এন্ট্রি! ২০০৫ সাল। শুরু ফ্রেঞ্চ ওপেনে। ফেড-এক্সের প্রথম ধাক্কা। তারপর এক সময় ফেডেরারের সাধের উইম্বলডনের মুকুটও ছিনিয়ে নেন নাদাল। বাকি ধাঁধার সমাধান করে ফেললেও ফরাসি ওপেনের জুজু ফেডেরার কিছুতেই তাড়াতে পারেননি। রোলা গারোঁ জিতেছেন ঠিকই। কিন্তু সেবার সেমিফাইনালেই ছিটকে যান নাদাল। ফাইনালে মুখোমুখি হলে কেরিয়ারের একমাত্র ফরাসি ওপেনও হয়তো অধরা থাকত ফেডেরারের!

কিন্তু শুধু ক্লে-কোর্টের বিভীষিকা খাড়া করাই নয়, সুইস তারকার ‘দৃষ্টিনন্দন’ টেনিসের মিথকে দুমড়ে-মুচড়ে ‘শক্তিমুখ্য’ টেনিসের যে মডেল সামনে দাঁড় করার নাদাল—দুই খেলোয়াড়ের দ্বৈরথের অন্যতম ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে এই বাইনারিকেই সামনে টানা হয়ে থাকে।

আর আলকারাজের উত্থানের পটভূমি ঠিক কীরকম? একদিকে রজার ফেডেরারের অবসর, ক্রমশ অপস্রিয়মাণ নাদাল আর দিনে দিনে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা নোভাক জোকোভিচ—এই আবহেই টেনিসের কোর্টে পা রাখেন স্পেনীয় তরুণ। সালটা ২০২২। তখন টেনিস ভারসাম্য হারিয়েছে। খুঁজে চলেছে নতুন নায়ক, নয়া পোস্টার বয়, নবতর ‘দ্বৈরথে’র বিজ্ঞাপন! যা টেনিসের বিগ থ্রি—নাদাল-ফেডেরার-জোকোভিচের লড়াইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে! প্রায় দু’দশকের রাইভ্যালরি আস্তাচলে যখন, ঠিক তখনই প্রায় যুগান্তরের ক্রান্তিলগ্নে ভূমিষ্ঠ হন আলকারাজ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসেন ইয়ানিক সিনার।

কিন্তু ইতিহাসের এই বার্তাকে মেনে নিয়েও নাদালের সঙ্গে তুলনা-প্রতিতুলনার অঙ্ক কষতে নারাজ রমেশ কৃষ্ণান। ভারতীয় টেনিসের অন্যতম কিংবদন্তির কথায়, ‘দুজনের অন্যতম ফারাক হচ্ছে: নাদাল ক্লে-কোর্টে প্রায় অপরাজেয়। আলকারাজ কিন্তু সমস্ত ধরনের মঞ্চে আপাতত একই ভাবে সফল। প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম এসেছে হার্ড কোর্টে, ইউএস ওপেনে। আলকারাজ ঘাসের কোর্টেও খেতাব জিতেছে, যা কেউ কল্পনা পর্যন্ত করেনি। আর এখন ফরাসি ওপেন। সেটাও দু’বার জিতে নিল। অন্যদিকে নাদালের প্রথম চারখানা খেতাবই ছিল রোলা গারোঁ। উইম্বলডন ফাইনালে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০০৮ সাল পর্যন্ত।‘

যদিও স্রেফ তথ্যগত সূক্ষ্ম ফাঁক নয়। তাত্ত্বিকদের মতে, খেলার শৈলী, রণকৌশলেও বিস্তর অমিল। একদিকে নাদাল। তাঁর আসল অস্ত্র ছিল ভলি। তারপর যত সময় গড়িয়েছে, নিত্যনূতন শট আস্তিনে জুড়েছেন। অন্যদিকে আলকারাজ তুলনায় ধীর কোর্টে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। নাদালের মতো শুধুই আক্রমণাত্মক নন। ডিফেন্সেও সমানভাবে চৌখশ। দূরতম জায়গা থেকে অকল্পনীয় উইনার মেরে ইতিমধ্যে শিরোনামে। অনুরাগীরা স্মরণ করাতে ভুলছেন না ২০২৩-এর উইম্বলডন ফাইনালে জোকোভিচের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য শট। ০-৩০-এ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় অকল্পনীয় ড্রপ শটে পয়েন্ট ছিনিয়ে লড়াইয়ে ফিরে আসেন আলকারাজ। সিনারের বিরুদ্ধে ম্যারাথন ফাইনালেও তৈরি হয়েছে এমন অজস্র মুহূর্ত।

আলকারাজ মানেই যে শুধু নাদাল নয়, তিনি যে স্পেনীয় তারকার কার্বন কপি নন, তা তেইশের ফাইনালের পর মনে করিয়ে দেন ‘জোকার’। জোকোভিচের কথায়, ‘জীবনে এমন খেলোয়াড় দেখিনি। রজার কিংবা রাফার শক্তি, দুর্বলতা ছিল। কিন্তু কার্লোস অবিশ্বাস্য! আমি বলব, আমাদের তিনজনের সেরা খেলা মিশিয়ে ও নিজেকে তৈরি করেছে।‘

আরেক ধাপ এগিয়েছেন জন ম্যাকেনরো। রবিবারের মহাকাব্যিক দ্বৈরথ দেখার পর টেনিস কিংবদন্তি বলেন, ‘আলকারাজ-সিনার জীবনের সেরা ফর্মের রজার-রাফাকেও হারিয়ে দেবে।‘

তাহলে টিকিট কেটে কার খেলা দেখতে চাইবেন? রাফায়েল নাদাল? নাকি কার্লোস আলকারাজের?

মুচকি হেসে কৃষ্ণানের জবাব: ‘দুজনের!’


```