
বৈভব সূর্যবংশী
শেষ আপডেট: 29 April 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “আচ্ছা, এমনটা কখনও হয়েছে, আপনি খেলতে নামলেন আর প্রথম বল… তাতেই চার হাঁকালেন?”
প্রশ্নটা করছেন যিনি, তিনি তেরো পেরিয়ে চোদ্দোর কোঠায় পা রেখেছেন। এখন তাঁর পড়াশোনা করার কথা। খেলায় বিশেষ ঝোঁক থাকলে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় নামার কথা। বন্ধুদের সঙ্গে টিফিন ভাগাভাগি আর বাবা-মায়ের সঙ্গে পকেটমানি পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে অভিমান করার কথা।
বদলে সেই তিনিই, বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi), খেলছেন আইপিএলে (IPL 2025)। কিন্তু শুধুই কি খেলছেন? বলা উচিত, দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাণ্ডব চালাচ্ছেন। গতকাল জয়পুরে একা হাতে মরুঝড় বয়ে আনলেন বছর চোদ্দোর খুদে ক্রিকেটার। ৩৫ বলে শতরান করলেন। রীতিমতো বেইজ্জত করলেন একদা খ্যাতিমান, বর্তমানে চর্চিত এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতিমান বোলারদের। একযোগে। ব্যাটহাতে কাউকেই রেয়াত, এতটুকু সম্মান দেখালেন না। কান্নাভেজা মুখে কদিন আগেই মাঠ ছেড়েছিলেন বৈভব। লিগ টেবিলের দু’নম্বরে থাকা দল গুজরাত টাইটানসকে একা হাতে নিধন করে সেই দুঃখ আর যাতনা সুদে-আসলে মেটালেন তিনি।
Youngest to score a T20 1⃣0⃣0⃣ ✅
— IndianPremierLeague (@IPL) April 28, 2025
Fastest TATA IPL hundred by an Indian ✅
Second-fastest hundred in TATA IPL ✅
Vaibhav Suryavanshi, TAKE. A. BOW ???? ✨
Updates ▶ https://t.co/HvqSuGgTlN#TATAIPL | #RRvGT | @rajasthanroyals pic.twitter.com/sn4HjurqR6
প্রথম বলে চার হাঁকিয়েছেন কখনও?—বলে প্রশ্ন করাটা অপরিণতির লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু এই অপরিপক্বতার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে অসম সাহস। তাই প্রশ্ন করার পরদিনই, ‘ম্যাচ ডে’-তে, লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে নেমে অবেশ খানের বলে ছক্কা হাঁকানোর দুঃসাহস দেখাতে পারেন বৈভব। ক্লাব লেভেল তো দূর অস্ত, স্কুলের খেলাতেও এমন অকুতোভয় কাণ্ড ব্যাট হাতে করে দেখাতে ডাকাবুকো কিশোরেরা বারদুয়েক ভাববে।
বৈভব এমন দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় দিতেই নারাজ। নইলে কালকের ম্যাচের আগে সাতসকালে ছেলেবেলার কোচকে ফোন করে কেউ বলে: ‘স্যার, আজ মারুঙ্গা’? (স্যার, আমি আজ চালিয়ে ব্যাট করব!) মণীশ ওঝা (Manish Ojha), শৈশবের কোচ তো ছেলের মতলব শুনেই থ। বাক্যহর। কী বলবেন? কী বলা উচিত? এই দামাল ছেলেটার ধাত যে তিনি বিলক্ষণ চেনেন। ছেলে মারবে বলেছে, মানে মারবেই! তবু যতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সামলে-সুমলে রাখা যায় ভেবেই উপদেশ দেন তিনি, ‘সে তুমি চালিয়ে খেলো। কিন্তু উইকেট ছুড়ে এসো না। শান্ত হয়ে ব্যাট করবে। যশস্বীর সঙ্গে কথা বলবে।‘
কোচের ‘পরামর্শ’ এ যাত্রা শুনেছেন কি শোনেননি তার উত্তর ভাল দিতে পারবেন সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৬০ হাজার দর্শক। বিপক্ষ শিবিরে মহম্মদ সিরাজ, ইশান্ত শর্মা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো বোলার। টার্গেট দুশোর উপরে। কিন্তু প্যাড পরে, যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে গ্লাভস বাম্প করে যখন মাঠে নামলেন সমস্তিপুরের কিশোর, তারপর স্টেডিয়াম জুড়ে যেটা বয়ে গেল তাকে টর্নেডো ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে! ১১খানা সুবিশাল ছয় এবং ৭টি জোরালো চারে সাজানো ইনিংস। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরির নজির। হুইলচেয়ারে আসীন স্বভাবত বীতস্পৃহ রাহুল দ্রাবিড়ের চেয়ার ছেড়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা… মাঠজুড়ে একাধিক স্মরণীয় দৃশ্যকল্পের জন্ম দিলেন বৈভব সূর্যবংশী। দিনকতক আগে মাঠ ছাড়ার সময় কেঁদেছিলেন তিনি। আজ সেই জলই যেন বিন্দু বিন্দু ঘাম হয়ে বৈভবের চোখেমুখে মুক্তোর মতো ঝলমল করছিল!
রাত গড়াতে সবকিছু যখন শান্ত, ম্যাচ চুকেবুকে গেছে, সাংবাদিকরা ফোন করেন মণীশকে। অবাধ্য ছাত্র তাঁর কথা শোনেননি। কী প্রতিক্রিয়া? ছকবাঁধা প্রশ্ন। কিন্তু আজ যে সমস্ত ছকই উল্টে দিয়ে এসেছে দামাল ছেলেটা। বিস্ময়বিমূঢ় গলায় তিনি শুধু বলে ওঠেন, ‘বৈভব বলেছিল মারবে। কিন্তু এভাবে আর এতটা মারবে তা ভাবিনি!’