আগের দিন গ্যালারিতে বাঁদরের দাপাদাপি, পরের দিন কোর্টে পাখির মল—দুইয়ে মিলে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

ইন্ডিয়া ওপেন ২০২৬
শেষ আপডেট: 16 January 2026 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্যালারি ভরেছিল চোখধাঁধানো স্ম্যাশ, মনভরানো ড্রপ শট দেখতে। রাজধানীর আঙিনায় আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট বলে কথা! প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু সেই আকাশ থেকেই ঝরে পড়ল বিষ্ঠা! হলঘরে উড়ন্ত পাখির মল। যার জেরে থমকে গেল খেলা। আগের দিন ‘খেল’ দেখিয়েছিল বাঁদরের পাল। তারা অবশ্য কোর্টে নয়, বেছে নিয়েছিল গ্যালারি৷ রংবেরঙের কেরামতি দেখে অবশ্য আহ্লাদ নয়, দর্শকদের গলা থেকে বেরিয়ে এসেছিল দমফাটা আর্তনাদ৷ ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার বাঁদরকে হটিয়ে শিরোনাম দখল করে নিল পাখির ঝাঁক!
আকাশ থেকে ‘অপ্রত্যাশিত বাধা’
Video:
Courtesy: BAI/Youtube. pic.twitter.com/fQ0iCV1l9d— Akshay Ramesh (@iamnotakshayr) January 15, 2026
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে (Indira Gandhi Indoor Stadium) পুরুষদের সিঙ্গলস প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হন এইচএস প্রণয় (HS Prannoy) ও সিঙ্গাপুরের লোহ কিন ইউ (Loh Kean Yew)। লড়াই তখন তুঙ্গে। দুই খেলোয়াড়ই লম্বা র্যালিতে একে অপরকে চাপে রাখছেন। ঠিক সেই সময় কোর্টের উপর টুপ করে ঝরে পড়ল পাখির মল। আম্পায়ারের নির্দেশে থামল খেলা। পরিষ্কার করা হল কোর্ট। কিন্তু নাটক এখানেই শেষ নয়। কিছুক্ষণ পর আবার একই ঘটনা। দ্বিতীয়বারও কোর্টে পাখির বিষ্ঠা। সুপার ৭৫০ স্তরের (Super 750) একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক খেলোয়াড়, কোচ ও দর্শক—সবাই। সাধারণত খেলোয়াড়ের অনুরোধে কোর্ট মোছা হয় বা রক্ত পড়লে রেফারি হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু পাখির মলের জন্য ম্যাচ থামানো—এমন দৃশ্য ব্যাডমিন্টন ম্যাচে, কার্যত নজিরবিহীন।
‘ভেন্যু পিজন-ফ্রি’—দাবির পরেই পর্দাফাঁস
এই ঘটনাকে ঘিরে বাড়তি বিতর্কের কারণ পর্দার আড়ালের একটি বিষয়। কয়েকদিন আগেই ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (Badminton Association of India) সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় মিশ্র (Sanjay Mishra) দাবি করেছিলেন, মূল ভেন্যু পিজন-ফ্রি। সেই বক্তব্য এসেছিল ডেনমার্কের শাটলার মিয়া ব্লিখফেল্টের (Mia Blichfeldt) অভিযোগের প্রেক্ষিতে। তিনি দিল্লির অনুশীলন ভেন্যু—কেডি যাদব ইনডোর হলে (KD Jadhav Indoor Hall) অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পাখির মলের কথা প্রকাশ্যে তুলেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সরানো হয় ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে। কিন্তু সেখানেও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় আয়োজকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যখন এই ভেন্যুতেই আগামী আগস্টে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ (World Championships) হওয়ার কথা!
প্রণয়ের সংযম, বাকিদের ক্ষোভ
ম্যাচ শেষে তিন গেমে হেরে যাওয়া প্রণয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্ভবত পাখির বিষ্ঠাই খেলা থামিয়েছে।’তবে পরিস্থিতিকে বড় করে দেখতে চাননি তিনি। প্রণয়ের কথায়, ‘সব খেলোয়াড়ের জন্য পরিস্থিতি এক। কোর্টে নামলে এসব নিয়ে ভাবার সময় থাকে না।’
যদিও বাকিদের গলায় উদ্বেগের সুর। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে থাকা আন্দের্স অ্যান্টনসেন (Anders Antonsen) দিল্লির দূষণের কারণে আগেই নাম প্রত্যাহার করেছিলেন। লোহ কিন ইউ-ও স্বীকার করেন, শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক ব্যবহার করছেন এবং যতটা সম্ভব ঘরের ভিতরেই থাকছেন।
গ্যালারিতে বাঁদর, কোর্টে পাখি—ছবি কী বলছে?
আগের দিন গ্যালারিতে বাঁদরের দাপাদাপি, পরের দিন কোর্টে পাখির মল—দুইয়ে মিলে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা যেখানে শীর্ষ মানের পরিকাঠামো আশা করেন, সেখানে এমন দৃশ্য ভারতের ক্রীড়াব্যবস্থার ভাবমূর্তিতে আঘাত করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। আসলে ম্যাচে হারজিতের ফলাফলের বাইরেও কিছু বিষয় থাকে, যা আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। ইন্ডিয়া ওপেন ২০২৬-এর কোর্টে তাই শুধু শাটল নয়, উড়ল প্রশ্নও—আয়োজনের মান নিয়ে।