মোদ্দা সওয়াল আরও বড়—বিশ্বমানের খেলাধুলোর জন্য দিল্লি শীতকালে আদৌ প্রস্তুত? নাকি শুধু জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে খেলোয়াড়দের ঝুঁকি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে?

আন্দার্স আন্তোনসেন
শেষ আপডেট: 14 January 2026 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বাতাসে শ্বাস নেওয়াই যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে ব্যাডমিন্টনের মতো হাই-ইনটেনসিটি খেলায় নামা কি আদৌ সম্ভব? এই প্রশ্ন আরও একবার জোরালোভাবে তুলে ধরলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থাকা ড্যানিশ তারকা আন্দার্স আন্তোনসেন (Anders Antonsen)। গুরুতর বায়ুদূষণের কারণ দেখিয়ে ইন্ডিয়া ওপেন ২০২৬ (India Open 2026) থেকে নাম তুলে নিলেন তিনি। টানা তিন নম্বর বছর সুপার ৭৫০ টুর্নামেন্ট এড়িয়ে গেলেন আন্তোনসেন।
‘এটা ব্যাডমিন্টনের জন্য নিরাপদ জায়গা নয়’
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন আন্তোনসেন। মূল বক্তব্য, দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই (AQI) যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০-র মধ্যে ঘোরাফেরা করছে—অর্থাৎ ‘ভেরি পুওর’থেকে ‘সিভিয়ার’—সেখানে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। ইনস্টাগ্রামে একিউআই-এর স্ক্রিনশট পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এই মুহূর্তে দিল্লি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজনের মতো জায়গা নয়।’
শীতকালে দিল্লির দূষণের মাত্রা যে কতটা ভয়াবহ, তা নতুন করে আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। কয়েকদিন আগেই মালয়েশিয়া ওপেনে (Malaysia Open) সেমিফাইনাল খেলে আসা আন্তোনসেনের এই সিদ্ধান্ত তাই আলোচনার কেন্দ্রে।
নিয়ম আছে, জরিমানাও আছে—তবু সিদ্ধান্তে অনড়
ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের (Badminton World Federation) নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ১৫ জন সিঙ্গলস খেলোয়াড়ের সুপার ৭৫০ ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক। না খেললে গুনতে হবে আর্থিক জরিমানা। সেই নিয়ম মেনেই ৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে রাজি আন্তোনসেন। তবু কিছুতেই টুর্নামেন্টে খেলতে নামবেন না। স্বাস্থ্য বনাম র্যাঙ্কিং—এই দ্বন্দ্বে স্পষ্টভাবে স্বাস্থ্যকেই বেছে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর আশা, আগামী গ্রীষ্মে দিল্লিতে আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে (BWF World Championships 2026) হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকবে।
প্রশ্নের মুখে দিল্লি
আন্তোনসেন একা নন। ডেনমার্কেরই আর এক শাটলার মিয়া ব্লিখফেল্ট (Mia Blichfeldt) প্রথম রাউন্ড খেলার পর ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের (Indira Gandhi Indoor Stadium) পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। স্টেডিয়ামের আকার ও পরিকাঠামো ভালো হলেও, পরিবেশকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ও ‘অপেশাদার’ বলে দেগে দেন। এমনকি হলের ভিতরে পাখি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন মিয়া।
এই সমস্ত মন্তব্য ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া-র (Badminton Association of India) জন্য অস্বস্তির। কারণ এই ইন্ডিয়া ওপেনকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ‘রিহার্সাল’ হিসেবে ধরা হচ্ছিল। শীতের দূষণ আর গ্রীষ্মের আবহাওয়ার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, শীর্ষ খেলোয়াড়দের এই প্রতিক্রিয়া দিল্লির ভাবমূর্তিতে ধাক্কা দিয়েছে। যে কারণে মোদ্দা সওয়াল আরও বড়—বিশ্বমানের খেলাধুলোর জন্য দিল্লি শীতকালে আদৌ প্রস্তুত? নাকি শুধু জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে খেলোয়াড়দের ঝুঁকি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে?