
প্রিয়াংশ আর্য
শেষ আপডেট: 9 April 2025 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর ডিসেম্বর মাসে বিজয় হাজারে ট্রফি খেলতে দিল্লি টিমে সুযোগ পান প্রিয়াংশ আর্য। কিন্তু অনূর্ধ-উনিশ টুর্নামেন্টের বেশ কিছু ম্যাচে কম রান করার জেরে তাঁকে দলে রেখেও শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মলিন মুখে এক বিকেলে হোটেল ছাড়ছিলেন প্রিয়াংশ। সেই সময় খবর পেয়ে ছুটে আসেন ইশান্ত শর্মা। তরুণ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। তারপর ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রোহন জেটলির কাছে দরবারের পর প্রিয়াংশকে দলে রাখার ব্যবস্থা করেন।
এই ঘটনার আড়ালে অনেকেই দিল্লি ক্রিকেটে স্বজনপোষণ ও বৈষম্যের গন্ধ পেয়েছিলেন। এর যোগ্য জবাব যদিও মুখে নয়, ব্যাট হাতেই দেন প্রিয়াংশ। উদ্বোধনী দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে এক ওভারে ছ’টি ছক্কা মেরে রেকর্ড গড়েন। মুস্তাক আলি ট্রফিতে দেখান দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এরই সুবাদে হাতে আসে চলতি আইপিএলের নিলামে পাঞ্জাবের সঙ্গে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার চুক্তি। কিন্তু দুর্নীতির এমনই মহিমা—ইশান্তের তদ্বির সত্ত্বেও বিজয় হাজারেতে দিল্লির হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচেই খেলার সুযোগ জোটে প্রিয়াংশের। সেটাও একেবারে শেষপর্বে।
এবারের আইপিএলে অবশ্য সমস্ত বৈষম্যের জবাব দিয়েছেন, নজর কেড়েছেন, গতকাল চেন্নাইয়ের জয়ের স্বপ্ন একাহাতে শেষ করেছেন পাঞ্জাবের নয়া তারকা। মাত্র ৩৯ বলে শতরান। ইউসুফ পাঠান ছাড়া আর কেউ আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততর শতরান করেননি। বীরেন্দ্র সেহওয়াগ এবং পল ভালথাটি ছাড়া এই টুর্নামেন্টে আর কেউ সিএসকের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরিও করেননি। তাঁর বিধ্বংসী সেঞ্চুরির সৌজন্যে একদিকে দলকে জিতেছে। অন্যদিকে একগুচ্ছ রেকর্ড গড়েছেন, রেকর্ড ভেঙেছেন প্রিয়াংশ।
পাঞ্জাব কিংসের তরুণ তুর্কির উত্থানের সাক্ষী দুজন, যারা তাৎপর্যপূর্ণভাবে এক সময় বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একজন দেবাং গান্ধী। অন্যজন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। গত মরশুমে দিল্লির কোচ ছিলেন। বিজয় হাজারে ট্রফির গোড়াতেই দিল্লি টিম থেকে বাদ পড়ে সেই দেবাংয়ের শরণাপন্ন হন প্রিয়াংশ আর্য। প্রশ্ন ছিল খুব সহজ: ঘরোয়া ক্রিকেট যখন খেলছেন না তখন কীভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন? নিজেকে আরও শানিত, ধারাল করে তুলবেন? ট্রায়াল ম্যাচে তাঁকে খেলতে দেখে এর জবাব দেন দেবাং। পরে স্বীকার করেন, ‘যেভাবে প্রতিটি বল টাইমিং করছিল, তাতে আমি চমকে যাই। সবচেয়ে বড় বিষয়—মায়াঙ্ক আগরওয়াল এবং হর্ষিত রানার মতো পেসারদের বিরুদ্ধেও স্বচ্ছন্দ ব্যাটিং করছিল ও। প্রিয়াংশের খেলায় একটা আত্মবিশ্বাস ফুটে বেরোয়।‘
এরপরই দিল্লি ক্যাপিটালসের তৎকালীন ডিরেক্টর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে প্রিয়াংশের কথা বলেন। সেই সময় দিল্লির কোচ রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে প্রিয়াংশের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনাও করেন সৌরভ। কিন্তু দলে জায়গা দিতে অসুবিধা হতে পারে ভেবে নিলামে কেনার জন্য এগোননি।
চলতি মরশুমে দিল্লি ছেড়ে পাঞ্জাবের কুর্সিতে পন্টিং। এবার তিনি একই ভুল করেননি। বেস প্রাইস নয়। তাঁর পরামর্শেই প্রায় ৪ কোটি অর্থমূল্যে প্রিয়াংশকে তুলে নিয়েছে পাঞ্জাব। যার প্রতিদান গতকাল চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শতরান।