দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই মুহূর্তের ফুটবল বিশ্বের তিন তারকাই এই বিশ্বকাপে তাঁদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। সারা বছরের ফুটবল মহলের আলোচনায় যে কথা বারবার ফিরে ফিরে আসে তা আরও গতি পেয়েছে এই সময়। ক্লাব ফুটবল বনাম দেশের জার্সি বিতর্কে উত্তাপ বাড়িয়েছে পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল। বলা ভাল, এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, লিওনেল মেসি এবং নেইমার।
গ্রুপ পর্যায়ের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পর্তুগাল নেমেছিল স্পেনের বিরুদ্ধে। আর প্রথম ম্যাচেই অনবদ্য হ্যাট্রিক করেন রোনাল্ডো। কিন্তু বাকি দুই তারকাই পাননি গোল, জেতেনি তাঁদের টিমও।
স্পেনের বিরুদ্ধে দু’বার এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। দু’বারই এগিয়ে দিয়েছিলেন রোনাল্ডো। উল্টোদিকে স্প্যানিশ আর্মাডাকে দু’বারই সমতায় ফিরিয়েছিলেন দিয়াগো কোস্টা। রোনাল্ডোর প্রথম গোল ছিল পেনাল্টি থেকে। দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে রোনাল্ডোর থেকে বেশি ভূমিকা নিয়েছিলেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডি হিয়া। এরপর নাচোর ইনস্টেপে দূরন্ত গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। ৮৮ মিনিটে বিশ্বমানের ফ্রিকিক থেকে অনবদ্য গোলে পর্তুগীজ জনতার ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হন সিআরসেভেন। ফুটবল মহলের অধিকাংশের বক্তব্য, এখানেই প্রথম ম্যাচে বাকি দু’জনকে ছাপিয়ে গিয়েছেন রিয়েল তারকা।
মেসিরা প্রথম ম্যাচে নেমেছিলেন বিশ্ব ফুটবলে একেবারে আনকোরা আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেখানে এলএমটেনকে কার্যত বোতলবন্দী করে রেখেছিল বরফের দেশের ফুটবলাররা। নড়তে পারেননি লিও। কিন্তু ডেড বল সিচুয়েশন থেকেও গোল তুলে আনতে পারেননি আর্জেন্টাইন তারকা। মিস করেছেন পেনাল্টি। সুবিধআজনক জায়গায় একাধিক ফ্রিকিক পেয়েও কোনওটা উড়িয়ে দিয়েছেন ক্রসপিসের উপর দিয়ে কোনওটা সরাসরি জমা হয়েছে গোলরক্ষকের হাতে।
একই ব্যাপার ঘটে নেইমারের ক্ষেত্রেও। একাধিকবার কড়া ট্যাকলের মুখে পড়তে হয় ব্রাজিলীয় আক্রমণভাগের অন্যতম এই ফলাকে। স্যুইস ডিফেন্ডার বহেরামি গোটা ম্যাচ গায়ে লেগেছিলেন নেইমারের। কিন্তু পিএসজি তারকাও দেশের জার্সি গায়ে এই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেমে নিজের নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারলেন না।
দিল্লি অনেক দূর। খেলা এখনও প্রায় পুরোটাই বাকি। ঘটবে অঘটন অথবা রোমাঞ্চকর নানান ঘটনা। সেসব দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে সারা দুনিয়ার কোটি কোটি ফুটবল পাগল। কিন্তু তিন তারকার প্রথম ম্যাচের শেষে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে এক নম্বরে পর্তুগালের সাত নম্বর জার্সিই।