
শ্রীবৎস গোস্বামী
শেষ আপডেট: 23 April 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামের (Pahalgam) বৈসরন উপত্যকায় (Baisaran Valley) জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ছাব্বিশ জন ভারতীয় নাগরিক। তাঁদের অধিকাংশই পর্যটক। জঙ্গি গোষ্ঠী লস্করের (Lashkar e Taiba) ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফোর্স বা টিআরএফ (TRF) এই হামলার দায় নিয়েছে। সেনা পা পুলিশের মতো পোশাক গায়ে জনাপাঁচেক জঙ্গি উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ে। তারপর হিন্দু পর্যটকদের নাম-পরিচয় জেনে গুলিতে ঝাঁজরা করে ধীরেসুস্থে ভ্যালির ঢাল বেয়ে নেমে যায়।
গোটা ঘটনার আকস্মিকতা এবং বর্বরতায় স্তম্ভিত গোটা দেশ, সারা বিশ্ব। এর ছাপ পড়েছে খেলার ময়দানেও। একাধিক ক্রিকেটার মতামত রাখছেন। সমবেদনা জানিয়েছেন যুবরাজ থেকে গৌতম গম্ভীরের মতো তারকা।
এই প্রসঙ্গে একধাপ এগিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার শ্রীবৎস গোস্বামী। একদা বিরাট কোহলির সঙ্গেই উত্থান হয়েছিল শ্রীবৎসের। একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে দেশকে জিতিয়েছিলেন অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ। কাশ্মীরের এই জঙ্গি নাশকতা প্রসঙ্গে কোনও গোষ্ঠী বা নিষিদ্ধ সংগঠন নয়, প্রাক্তন ক্রিকেটারের নিশানায় উঠে এল পাকিস্তান। পড়শি মুলুককে বিঁধে একটি লম্বা পোস্ট লিখেছেন শ্রীবৎস। যার ছত্রে ছত্রে যুক্তি দিয়ে দেখানো হয়েছে, কেন এই মুহূর্তে শুধু নয়, বরাবরের জন্য ভারতের খেলাধুলোর অঙ্গনে পাকিস্তানকে বয়কট করা উচিত।
শ্রীবৎস লিখেছেন, ‘ঠিক এই কারণেই আমি বারবার বলে এসেছি, পাকিস্তানের সঙ্গে কখনও ক্রিকেট খেলা উচিত নয়। এখন নয়। কখনও নয়। যখন বিসিসিআই এবং কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় দলকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তান যেতে দেয়নি, তখন অনেকেই ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘খেলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। সত্যি? আমার তো মনে হয়, নিরীহ ভারতীয়দের হত্যা করাই ওদের জাতীয় খেলা। আর যদি সেটা সত্যি হয়, তাহলে এবার ওদের ভাষাতেই জবাব ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। সেটা ব্যাটে-বলে নয়। স্থির সংকল্পের ঢঙে। আত্মসম্মানের পথে। জিরো টলারেন্সের রাস্তায়। আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। ভেঙে পড়েছি।‘
ENOUGH!!!! pic.twitter.com/1fF6XUhgng
— Shreevats goswami (@shreevats1) April 22, 2025
যদিও এই প্রসঙ্গে জাতিবিদ্বেষ কিংবা ধর্মবিদ্বেষকে এতটুকু আস্কারা দিতে নারাজ শ্রীবৎস। স্থানীয় অধিবাসীদের যাতে নিশানা না করা হয়, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। বলেছেন, ‘কয়েক মাস আগেই লেজেন্ডস লিগ খেলতে আমি কাশ্মীর যাই। পহেলগাম ধরেই হেঁটে গিয়েছিলাম। এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলি। তখনই তাঁদের চোখে হারিয়ে যাওয়া আশা ফিরতে দেখেছিলাম। আর এখন… সবকিছু রক্তে ভেসে গেল। এমন ঘটনা আপনাকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলার জন্য যথেষ্ট। আমাদের নাগরিকরা মারা যাওয়ার পর আর কতদিন চুপ থাকব আমরা? এই নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু আর নয়। এবার তো নয়ই।‘