স্বপ্নভঙ্গ আয়াক্সের, মৌরার হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে টটেনহ্যাম
দ্য ওয়াল ব্যুরো : স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছেও স্বপ্নকে ছুঁতে পারল না আয়াক্স। দ্বিতীয় লেগের প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে ফুটবল দুনিয়া দেখল এক অন্য খেলা। আক্রমণ, আক্রমণ আর আক্রমণ। এই একটা হাতিয়ারেই অসম্ভবকে সম্ভব করল পোচেত্তিন
শেষ আপডেট: 8 May 2019 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো : স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছেও স্বপ্নকে ছুঁতে পারল না আয়াক্স। দ্বিতীয় লেগের প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে ফুটবল দুনিয়া দেখল এক অন্য খেলা। আক্রমণ, আক্রমণ আর আক্রমণ। এই একটা হাতিয়ারেই অসম্ভবকে সম্ভব করল পোচেত্তিনোর ছেলেরা। খেলার শেষ মিনিটে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিকের সঙ্গে টটেনহ্যামকেও ফাইনালে তুললেন লুকাস মৌরা। হ্যারি কেন চোট না পেলে হয়তো সুযোগই পেতেন না এই স্ট্রাইকার।
প্রথম লেগে টটেনহ্যামের মাঠে ১-০ জিতে জোহান ক্রুয়েফ এরিনাতে খেলতে নেমেছিল আয়াক্স। শুরুটাও তেমনই করেছিল নেদারল্যান্ডসের এই দল। আক্রমণাত্মক ফুটবলের ফসল শুরুতেই তুলে নেয় তারা। ৫ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে হেডে গোল করে আয়াক্সকে এগিয়ে দেন তাঁদের টিনেজার অধিনায়ক ডি লিগট। টটেনহ্যাম খেলতেই পারছিল না। ইংল্যান্ডের দলের ডিফেন্সকে নিয়ে ছেলেখেলা করছিলেন জিয়াচ, তাদিচ, ভ্যান ডে বেকরা। ৩৫ মিনিটের মাথায় টপ বক্স থেকে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে ব্যবধান বাড়ান জিয়াচ। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ড্রেসিং রুমে যায় আয়াক্স।
হাফ টাইমে একটাই বদল করেন পোচেত্তিনো। মাঝমাঠে ওয়ানামার জায়গায় নিয়ে আসেন লরেন্তেকে। দীর্ঘদেহী এই স্ট্রাইকার আসার পরেই খেলায় বদল এল টটেনহ্যামের। প্রতিটা সেকেন্ড বল পেতে শুরু করলেন ডেলে আলি, সন, এরিকসনরা। এর মধ্যেই ৫৫ মিনিটের মাথায় কাউন্টার থেকে ডেলে আলির কাছে বল পেয়ে দুরন্ত গতিতে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করে ব্যবধান কমান মৌরা। চার মিনিট পরেই লরেন্তের হেড দুরন্ত বাঁচান ওনানা। কিন্তু ফিরতি বল আয়াক্স ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মৌরা।

এই গোলের পর থেকেই জয়ের গন্ধ পেয়ে যায় ইংল্যান্ডের এই ক্লাব। অন্যদিকে চাপে পড়ে ভুল করতে থাকে আয়াক্স। খেলার ছবি পুরো বদলে যায়। তারমধ্যেই ফের গোল করার সুযোগ পেয়েছিল আয়াক্স। একটি ক্ষেত্রে জিয়াচের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৮২ মিনিটের মাথায় ফের জিয়াচের শট পোস্টে লেগে ফেরে। শেষ মুহূর্তে ফের জিয়াচের জোরালো শট দারুণ বাঁচান লরিস।
অন্যদিকে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ভারটঙ্গানের হেড বারে লেগে ফেরে। ফিরতি বলে ফের তাঁর শট গোললাইন সেভ হয়। মনে হচ্ছিল কোনও রকমে টটেনহ্যামকে হয়তো রুখে দিয়েছে আয়াক্স। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে ফের বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে গোলকিপারের বাঁ'দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মৌরা। সেই সঙ্গে ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। এগ্রিগেটে ৩-৩ হলেও অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে জয় পায় ইংল্যান্ডের এই দল।
এই জয়ের ফলে বহু বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ডের দুই ক্লাব। একদিকে লিভারপুল। অন্যদিকে টটেনহ্যাম। ফাইনালে যেই জিতুক, এটা নিশ্চিত যে চেলসির পর ফের সাত বছর বাদে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফিরতে চলেছে ইংল্যান্ডে।