দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোন দলে তিনি খেলবেন তাই নিয়ে ডামাডোল চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। চুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙার অভিযোগও উঠেছিল সুখদেবের উপর। অবশেষে শাস্তি পেতে হলো। চার মাসের জন্য পাঞ্জাবের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার সুখদেব সিংকে নির্বাসিত করল ফেডারেশন।
গত মরশুমে মিনার্ভা পাঞ্জাবকে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাই ট্রান্সফার উইন্ডো খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিতে ঝাঁপিয়েছিল কলকাতার দুই প্রধান। শোনা গেছিল ইস্টবেঙ্গলে খেলার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন সুখদেব সিং। এমনকী সাংবাদিক সম্মেলন করে লালহলুদ কর্তারা জানিয়েছিলেন যে চুক্তিপত্রে সই পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে সুখদেব সিংয়ের।
কিন্তু তারপরেই নাটক। ১৪ মে সাংবাদিক সম্মেলন করে মোহনবাগানের দল নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সৃঞ্জয় বোস দাবি করেন, ইস্টবেঙ্গল নয়, বরং মোহনবাগানের হয়ে পরের মরশুমে আই লিগে খেলতে দেখা যাবে সুখদেবকে। মোহনবাগানের সঙ্গে নাকি চুক্তিপত্রে সই হয়ে গিয়েছে তাঁর। এমনকী ক্লাবের কাছ থেকে অগ্রিম পারিশ্রমিকও নিয়ে নিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে সৃঞ্জয় বলেন, তাঁরা ২৪ জনের দলের নাম প্রকাশ করেছিলেন সুখদেবের কথা মাথায় রেখেই। তাঁর নাম আগে প্রকাশ করেননি, কারণ পাশের ক্লাব ইস্টবেঙ্গলও চেয়েছিল সুখদেবকে নিতে।
কিন্তু এই চুক্তির ব্যাপারে ডামাডোল চলতে থাকে। বল চলে যায় ফেডারেশনের কোর্টে। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান দুই ক্লাবই দাবি জানায় সুখদেব সিং তাদের দলের চুক্তিবদ্ধ ফুটবলার। শুক্রবার ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়, চুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙেছেন সুখদেব সিং। এভাবে কখনওই প্রথমে এক ক্লাবে সই করে পরে বেশি অঙ্কের টাকা পেয়ে অন্য ক্লাবে সই করাটা বেআইনী। তাই ফেডারেশনের পক্ষ থেকে চার মাসের জন্য সুখদেব সিংকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা সমস্যায় পড়েছে বাগান। সুখদেবকে মাথায় রেখেই সামনের মরশুমের জন্য দল সাজিয়েছিলেন কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। চার মাস নির্বাসন মানে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত খেলতে পারবেন না এই ডিফেন্ডার। ততদিনে আই লিগের বেশিরভাগ খেলা হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে অন্য কোনও ডিফেন্ডারের খোঁজ বাগান করে কি না সেটাই দেখার।