বিশ্বকাপার কুপোকাত, ইস্টবেঙ্গলের হার পিয়ারলেসের কাছে, লিগ প্রায় মুঠোয় বাগানের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাতিল ক্রোমার পায়ে আটকে যেতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। সেই ক্রোমার পায়েই প্রথম ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল। কাশিম আইদারার গোলে লাইফলাইন পেলেও প্রাক্তন মোহনবাগানি নরহরি শ্রেষ্ঠার গোলে শেষ পেরেক পুঁতে গেল ইস্টবেঙ্গলের কফিনে। ফলে লিগের লড়
শেষ আপডেট: 6 September 2018 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাতিল ক্রোমার পায়ে আটকে যেতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। সেই ক্রোমার পায়েই প্রথম ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল। কাশিম আইদারার গোলে লাইফলাইন পেলেও প্রাক্তন মোহনবাগানি নরহরি শ্রেষ্ঠার গোলে শেষ পেরেক পুঁতে গেল ইস্টবেঙ্গলের কফিনে। ফলে লিগের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ল লালহলুদ ব্রিগেড।
খেলার শুরু থেকে অবশ্য বেশি আক্রমণ শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ৫ মিনিটের মাথায় একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জবি জাস্টিন। ফিরতি বল থেকে প্রতি আক্রমণে রহিম নবির কাছ থেকে বল পান ক্রোমা। আউটসাইডে বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টাকে কাটিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় আগুয়ান রক্ষিত ডাগরকে কাটিয়ে বল ঠেলে দেন জালের মধ্যে। পিয়ারলেস এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
গোল খাওয়ার পর অবশ্য গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। তার মধ্যেই চোট পেয়ে গোলদাতা ক্রোমা বেরিয়ে গেলে পিয়ারলেসের আক্রমণ ভাগ থেমে যায়। কিন্তু পিয়ারলেসের ডিফেন্সে দলরাজ ও চিকাওয়ালির জুটির কাছে সব আক্রমণ প্রতিহত হয়ে যায়। বেশ কিছু ভালো আক্রমণ বাঁচান গোলরক্ষক সন্দীপ পাল। প্রথমার্ধের বাকি সময়টা খেলা হলো পিয়ারলেস অর্ধেই। কিন্তু জবি জাস্টিন, কাশিম আইদারারা বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন। ফলে সুযোগ পেয়েও সমতা ফেরাতে পারেননি তাঁরা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কিছুটা খেলা ধরার চেষ্টা করে পিয়ারলেস। কিন্তু আক্রমণের ঝাঁঝ বেশি ছিল ইস্টবেঙ্গলের। জবির সঙ্গে বালি গগনদীপকে নামিয়ে জোড়া স্ট্রাইকারে চলে যান লালহলুদ কোচ সুভাষ ভৌমিক। কিন্তু তা সত্বেও গোলের মুখ খুলছিল না। ৭১ মিনিটের মাথায় মেহতাবের ক্রস ডান পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দিয়ে সমতা ফেরান কাশিম আইদারা। এই গোলের পর লালহলুদ সমর্থকদের মনে আশা ছিল জর্জ টেলিগ্রাফ ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হয়তো হতে চলেছে।
কিন্তু ৭৭ মিনিটের মাথায় ফের খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে প্রতি আক্রমণে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে পিয়ারলেসকে এগিয়ে দেন প্রাক্তন বাগানি নরহরি শ্রেষ্ঠা। বাকি সময়টা গোল শোধ করার আপ্রান চেষ্টা করেন আমনা, জবি জাস্টিনরা। কিন্তু সব আক্রমণ পিয়ারলেস বক্সে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত সময়ে অ্যাকোস্টার দুরন্ত হেড ঝাঁপিয়ে বাঁচান পিয়ারলেস গোলকিপার সন্দীপ পাল।
এমনকী ৮ মিনিট অতিরিক্ত সময় পেয়েও গোল শোধ করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। দুরন্ত ফুটবল খেললেন রহিম নবি, চিকাওয়ালি, অ্যান্টনি উলফ, নরহরি শ্রেষ্ঠারা। বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্যের পরিকল্পনার কাছে মাত খেলেন সুভাষ ভৌমিক। এই হারের ফলে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট থাকল ইস্টবেঙ্গলের। প্রতিপক্ষ মোহনবাগান এগিয়ে গেল ৩ পয়েন্টে। বাকি আর ২ ম্যাচ। লিগের যা অবস্থা তাতে বলা যেতেই পারে লিগ প্রায় হাতের মুঠোয় চলে এল মোহনবাগানের।