
শেষ আপডেট: 23 January 2020 10:23
শুরু থেকেই চাপ বাড়তে থাকে নেরোকা বক্সে। ডিফেন্স সজাগ থাকায় গোল আসেনি। ২৭ মিনিটের মাথায় সেই ডিফেন্সে ফাটল ধরল। বাঁ'দিক দিয়ে বেইতিয়ার ক্রস ধরে বক্সের মধ্যে মাইনাস করলেন ধনচন্দ্র সিং। সেই বল নেরোকার বিদেশি গোলকিপার ফিলিপ ফিস্ট করলে ফিরতি বল প্রথম পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন নংদম্বা নওরেম। তারপরেও পরপর তিনটে কর্নার থেকে গোল বাড়িয়ে নিতে পারত বাগান। কিন্তু ফিলিপের হাত সব আক্রমণ আটকে দেয়। বক্সের বাইরে থেকে বাবার বুলেট ফ্রিকিক দারুণ বাঁচান ফিলিপ। অন্যদিকে সমতা ফেরাতে পারত নেরোকাও। ফ্রিকিক থেকে ফ্রি হেড মিস করেন নেরোকার স্ট্রাইকার দিয়ারা।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাগান। সেই একই প্রেসিং ফুটবলের সুফল মেলে। ৫৩ মিনিটের মাথায় বাঁ'দিকে বল ধরে দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে ক্রস রাখেন নওরেম। ডার্বির কায়দাতেই হেডে গোল করে ব্যবধান বাড়ান বাবা। পরপর দু'ম্যাচে দু'গোল করলেন এই স্ট্রাইকার।
তারপরেও আক্রমণ করতে থাকে মোহনবাগান। বেশ কিছু সুযোগ অল্পের জন্য নষ্ট হয়। অন্যদিকে ডিফেন্সেও ভাল খেললেন ড্যানিয়েল সাইরাস ও ফ্রান মোরান্তে। নেরোকার কিছু আক্রমণ ঠান্ডা মাথায় আটকান তাঁরা। দু'গোলে এগিয়ে থাকার পরেই খেলার গতি কমিয়ে দেয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। যদিও তার মধ্যেই দু'একটা আক্রমণ হয় নেরোকার। কিন্তু গোল আসেনি।
এদিন বাগানের প্রতিটা আক্রমণ শুরু হল শঙ্কর রায়ের পা থেকে। তারপর ছোট ছোট পাসে নিজেদের মধ্যে খেলে কখনও থ্রু, কিংবা কখনও দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণে উঠলেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। ডার্বিতে ৬৫ মিনিটের পর যেমন বাগান টিমটা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, এদিন তেমন হল না।
৮৭ মিনিটের মাথায় ফের গোল পেয়ে যেতে পারতেন শুভ ঘোষ। বেইতিয়ার লং থ্রু ব্যাক হিল করে শুভর জন্য সাজিয়ে দেন বাবা। শুভর শট একটুর জন্য বেরিয়ে যায়। তারপরেও সুযোগ নষ্ট হয়। শেষ মুহূর্তে বাগান জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করেন নতুন বিদেশি তুরসুনভ। বাগান স্ট্রাইকাররা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অন্তত ৬-০ গোলে জিততে পারতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
এদিনের জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে অনেকটাই এগিয়ে দেল বাগান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পঞ্জাব এফসির থেকে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে কিবু ভিকুনার দল।