দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলা শুরুর আগেই সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা হয়েছে ক্লাব তাঁবুতে। আর তার পরে যেন গোলের সেলিব্রেশন চলল মাঠে। বড় ম্যাচে ড্রয়ের পর ফুড কর্পোরেশনকে কার্যত দুরমুশ করে ৫-০ গোলে হারাল মোহনবাগান। সৌজন্যে গোলমেশিন ডিপান্ডা ডিকার চলতি মরশুমের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। সেইসঙ্গে শিক্ষক দিবসে কোছ শঙ্করলাল চক্রবর্তীকে গুরুদক্ষিণা দিলেন ডিকা, হেনরিরা।
খেলার শুরু থেকে ছবিটা ছিল কিন্তু কিছুটা আলাদা। মোহনবাগান বেশি আক্রমণ শুরু করলেও এফসিআইয়ের বক্সে এসে সেই আক্রমণ খেই হারিয়ে ফেলছিল। ৬ মিনিটের মাথায় কিসেকার শট দারুণ বাঁচান গোলকিপার ধনঞ্জয় অধিকারি। মাঝে মাঝে প্রতি আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি করছিল এফসিআই। ১৫ মিনিটের মাথায় আজহারউদ্দিনের শট একটুর জন্য বাইরে চলে যায়।
মাঝমাঠে কিছুটা মিস পাস চলতে থাকে মোহনবাগান খেলোয়াড়দের মধ্যে। সেই সুযোগে গোলের সামনে পায়ের জঙ্গল তৈরি করছিলেন এফসিএই খেলোয়াড়েরা। বিশেষ করে ডিফেন্ডার বিকাশ সাইনি ও অধিনায়ক লক্ষ্মীকান্ত দে দারুণ ডিফেন্ডিং করছিলেন। ফলে একের পর এক আক্রমণ থেকেও ফসল তুলে আনতে পারছিলেন না ডিকা, কিসেকারা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে অভিষেক আম্বেকরের ফ্রিকিক থেকে হেড করেন ব্রিটো। কোনও মতে ধনঞ্জয় সেটা বাঁচালেও ফিরতি বলে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন ডিকা।
দ্বিতীয়ার্ধে দুটো পরিবর্তন করেন মোহন কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। নামান ডার্বির নায়ক পিন্টু মাহাতা ও তীর্থঙ্কর সরকারকে। বদলে যায় মোহনবাগানের ছবি। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনতে থাকেন পিন্টু, অরিজিৎ, তির্থঙ্কররা। ৬১ মিনিটে অরিজিতের ক্রসে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ডিপান্ডা ডিকা। ৬ মিনিট পরেই হ্যাটট্রিক ডিকার। বাঁ প্রান্ত ধরে বল ধরে ডিকার জন্য ঠিকানা লেখা ক্রস বাড়ান পিন্টু মাহাতা। ডান পায়ের টোকায় বল জালে জড়িয়ে চলতি মরশুমে নিজের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করলেন ডিকা।
৭১ মিনিটের মাথায় ডিকার মুখে কনুই চালিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এফসিআই অধিনায়ক লক্ষ্মীকান্ত দে'কে। ৭৪ মিনিটে তীর্থঙ্করের ক্রস থেকে নিজের প্রথম ও দলের চার নম্বর গোল করেন কিম কিমা। ৮৩ মিনিটের মাথায় তীর্থঙ্করের কর্নারে পিন্টুর ব্যাক হেড থেকে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কিম কিমা। মোহনবাগান এগিয়ে যায় ৫-০ গোলে।
তারপরেও একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোল সংখ্যা বাড়াতে পারেননি ডিকারা। অতিরিক্ত সময়ে ডিকার ভলি সোজাসুজি চলে যায় গোলকিপার ধনঞ্জয়ের হাতে। নইলে ব্যবধান আরও বাড়ত। এই জয়ের ফলে লিগ তালিকায় ৯ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ১ নম্বরেই রইল মোহনবাগান। সেইসঙ্গে ৫ গোল করে গোল সংখ্যা হলো ২৩ ও গোল পার্থক্য হলো ১৮। ফলে গোল সংখ্যা ও গোল পার্থক্য অনেকটাই বাড়িয়ে রাখল বাগান। এই ব্যবধান নির্নায়ক হয়ে উঠতে পারে লিগ জয়ে।