দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর ম্যাচ হারার পরেই শঙ্করলালের প্রস্থান চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। বাগানের নতুন কোচ কে হবেন তা নিয়ে অনেকগুলো নামই ভাসছিল ময়দানে। সোমবার দুপুরেই বাগান কর্তারা ঠিক করে ফেললেন, ডিকা, হেনরিদের নতুন হেডস্যার হচ্ছেন আইজলকে আই লিগ দেওয়া কোচ তথা ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ খালিদ জামিল।
শঙ্করলাল চক্রবর্তীর হাত ধরেই ঘরোয়া লিগে ট্রফির খরা কাটিয়েছিল মোহনবাগান। আর তাই আই লিগেও মিতভাষী শঙ্করলালের উপরেই আস্থা রেখেছিলেন বাগান কর্তার। কিন্তু আই লিগের শুরু থেকেই বিপর্যয়। ঘরের মাঠে একের পর ম্যাচে হার, ৩৩ মাস পরে ডার্বিতেও হারের যন্ত্রণায় ক্ষোভ বাড়ছিল বাগান সমর্থকদের মধ্যে। ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিলেন সবুজ-মেরুন কোচ। হারের পরেও দলের খেলোয়াড়দের দোষ দেননি। নিজের কাঁধে নিয়েছেন। কিন্তু রিয়েল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে হারের পর আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না।
রবিবার, ম্যাচের পরেই বাগান কর্তাদের গিয়ে শঙ্করলাল জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করতে চান। ব্যর্থতার সব দায় নিজের ঘাড়ে নিয়েই সরে যেতে চান তিনি। অবশ্য সামনেই ৯ ও ১২ জানুয়ারি ম্যাচ থাকায় দুটো ম্যাচের জন্য তিনি কোচিং করিয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। বাগান কর্তাদের বলেন, এই সময়ের মধ্যে নতুন কোচ খুঁজে নিতে।
বাগান কর্তারাও বুঝে যান, শঙ্করলালকে আর রাখা যাবে না। তাই তড়িঘড়ি নতুন কোচের খোঁজ শুরু করেন তাঁরা। বিদেশী কোচের তুলনায় ভারতীয় কোচ নেওয়ার ব্যাপারেই আগ্রহ ছিল সবুজ-মেরুন কর্তাদের। নতুন কোচ হিসেবে উঠে আসছিল খালিদ জামিল, ডেরেক পেরেরা, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্যের নাম। অবশেষে প্রাক্তন লাল-হলুদ কোচ খালিদ জামিলের দিকেই ঝুঁকলেন কর্তারা।
২০১৬-১৭ মরসুমে আনকোরা আইজল এফসিকে আই লিগ দিয়েছিলেন খালিদ জামিল। তারপরেই ইস্টবেঙ্গলের নজরে পড়েন এই কোচ। পরের মরসুমে ইস্টবেঙ্গল তাঁকে কোচ করে নিয়ে আসে। নিজের সঙ্গে আল-আমনা, ডানমাওয়াইয়াদের মতো আইজলের একাধিক খেলোয়াড়কে নিয়ে আসেন খালিদ। এসেই কলকাতা লিগ জেতেন। কিন্তু আই লিগে গিয়ে তাঁকেও সমস্যায় পড়তে হয়। দলের কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় খালিদের। তাঁর কোচিং পদ্ধতির সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারছিলেন না অনেকে। এর ফল পড়ে খেলায়। কাছে গিয়েও হাতছাড়া হয় আই লিগ।
তারপরেই খালিদকে সরিয়ে অভিজ্ঞ সুভাষ ভৌমিককে কোচ করে নিয়ে আসেন লাল-হলুদ কর্তারা। চলতি মরসুমে কোনও দলের কোচের দায়িত্ব নেননি খালিদ। ইস্টবেঙ্গলে কোচিংয়ের সুবাদে ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে বাংলার ফুটবলকেও বোঝেন ৪১ বছরের খালিদ জামিল। সাফল্যও আছে তাঁর ঝুলিতে। তাই হয়তো তাঁর দিকেই ঝুঁকলেন বাগান কর্তারা। এখন দেখার চলতি লিগে যে ভাবে চোরাস্রোতে তলিয়ে গিয়েছে মোহনবাগান, সেখান থেকে খালিদ দলকে টেনে তুলতে পারেন কিনা।