
শেষ আপডেট: 12 November 2018 17:12
সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য প্রিন্ট'এর এক অনুষ্ঠানে এসে এমনটাই জানিয়েছেন জন। সেখানে চিফ এডিটর শেখর গুপ্ত তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন 'লগান' ছবি নিয়ে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক ক্রিকেট ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে চম্পারনের গ্রামের যুবকদের লড়াই দেখা গেছিল সেই ছবিতে। ম্যাচ জিতে যাওয়ায় লগান ( কর ) দিতে হয়নি তাঁদের। এই প্রসঙ্গেই জন বলেন, "এটা তো ফিকশন। আমি রিয়ালিটি নিয়ে কাজ করতে চাই। ১৯১১ সালে খালি পায়ে বাংলার এক ক্লাব মোহনবাগান ব্রিটিশ ক্লাব ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়েছিল। এটা নিয়ে ছবিও হয়েছে। এই ঘটনা আমার মনের খুব কাছাকাছি। তাই আমি এটা নিয়ে ছবি করব। আমি চাই এরকম এক লড়াই, সাফল্যের কাহিনী সবার সামনে তুলে ধরতে।"
https://www.youtube.com/watch?v=zpXALlHDaXM&feature=youtu.be
কোন চরিত্রে অভিনয় করতে চান জন? সেটারও উত্তর দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, " মোহনবাগান দলের অধিনায়ক শিবদাস ভাদুড়ি'র চরিত্রেই অভিনয় করবেন তিনি। অবশ্য অভিলাষ ঘোষের চরিত্রও খুব গুরুত্বপূর্ণ। " অবশ্য কোন পরিচালক এই ছবি পরিচালনা করবেন সেটা নিয়ে এখনও কিছু বলেননি জন।
যদিও এর আগে এক সাক্ষাৎকারেও এই ছবির প্রসঙ্গে এনেছিলেন জন আব্রাহাম। তখন তিনি বলেছিলেন, সুজিত সরকারকেই তিনি সব দায়িত্ব দিয়েছেন। সুজিতই সব দেখভাল করছে। তিনিই নাকি জনকে একজন ফুটবলারের মতো স্বাস্থ্য তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও দ্য ওয়াল'এর পক্ষ থেকে সুজিত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, " এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে কিছু বলছি না।" তবে ফুটবলের প্রতি সুজিতের যা প্যাশন তাতে তাঁকেই এই ছবির যোগ্য পরিচালক হিসেবে মনে করছেন সিনেপ্রেমীরা।
ফুটবলের প্রতি জন আব্রাহামের প্যাশনের কথা জানেন না, এমন লোক বোধ হয় খুব কমই আছেন। এর আগে সাক্ষাৎকারে জন আব্রাহাম অনেকবার বলেছেন, " আমি ফুটবল শুধু ভালোবাসিই না, ফুটবল আমার ডিএনএ'তে আছে।" এখনও নিয়ম করে প্রত্যেক উইকেন্ডে মুম্বই স্পোর্টস এরিনাতে ফুটবল খেলেন জন। বলিউড নায়কদের যে কোনও ফুটবল ম্যাচে জনকে অংশ নিতে দেখা যায়। ২০০৭ সালে 'ধন ধনা ধন গোল' নামের একটি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন জন। এমনকী আইএসএলে উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যকে নিয়ে তৈরি দল নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মালিকও তিনি।
আর এই খবর বেরানোর পরেই তর যেন আর সইছে না আম বাঙালির, বিশেষ করে মোহনবাগান সমর্থকদের। তাঁদের প্রাণের অনেক কাছে এই ১৯১১'র আইএফএ শিল্ড জয়। তাই আরও একবার সেলুলয়েডে সেই কাহিনী দেখার প্রত্যাশায় সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। সেই সঙ্গে একই রকম উৎসুক ফুটবল প্রেমীরাও। কারণ ১৯১১'র এই জয় তো আসলে বাঙালিদের জয়, পরাধীনতার দুঃখ থেকে মুক্তির জয়, সর্বোপরি ফুটবলের জয়।