দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হলেন ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। এর আগে টেস্টে ৬০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন তিনজন। শ্রীলঙ্কার মুথাইয়া মুরলীধরণ, অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন ও ভারতের অনিল কুম্বলে। কিন্তু তাঁরা তিনজনেই স্পিনার। প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে টেস্টে ৬০০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁলেন জেমস অ্যান্ডারসন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের শেষ দিনে এই রেকর্ড গড়লেন তিনি।
মঙ্গলবার সাউদাম্পটনে পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলিকে আউট করার সঙ্গে সঙ্গেই এই কৃতিত্বের অধিকারী হন তিনি। তৃতীয় টেস্টে ৬০০ উইকেট নেওয়ার জন্য সাত উইকেট দরকার ছিল অ্যান্ডারসনের। তার মধ্যে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অ্যান্ডারসন। আর তারপরেই তাঁর ৬০০ উইকেটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় ইনিংসের আবিদ আলি ও আজহার আলির উইকেট নিয়ে সেই মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।
অ্যান্ডারসনের সামনে এখন রয়েছেন মুরলী, ওয়ার্ন ও কুম্বলে। মুরলীধরণ ৮০০, ওয়ার্ন ৭০৮ ও কুম্বলে ৬১৯ উইকেট নিয়েছেন। অর্থাৎ মুরলী ও ওয়ার্নের রেকর্ড থেকে দূরে থাকলেও কুম্বলের রেকর্ড পরবর্তী টেস্ট সিরিজেই ভেঙে ফেলতে পারেন অ্যান্ডারসন।
২০০৩ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল জেমস অ্যান্ডারসনের। প্রথমে ওয়ান ডে ও টেস্ট দুই ফরম্যাটেই ভাল বল করলেও তারপরে ধীরে ধীরে নিজেকে টেস্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ওভালে মহম্মদ শামির উইকেট নেওয়ার পরেই গ্লেন ম্যাকগ্রার ৫৬৩ উইকেট টপকে গিয়ে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন অ্যান্ডারসন। তারপরে ২০২০ সালে ৬০০ উইকেট নেওয়ার প্রথম পেসার হলেন তিনি।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ভাল বল করতে পারেননি অ্যান্ডারসন। তারপরেই তাঁর অবসরের জল্পনা শুরু হয়। সেসব উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে উইকেটের মধ্যে ফেরেন অ্যান্ডারসন। তৃতীয় টেস্টে তাঁর আসল রূপ দেখা যায়। টেস্টে নিজের ২৯ তম ৫ উইকেট নিয়ে এই ডানহাতি পেসার বুঝিয়ে দেন, এখনও আগুন ঝরানোর ক্ষমতা রাখেন তিনি।
অ্যান্ডারসনের এই কৃতিত্বের পরে ক্রিকেট বিশ্ব থেকে আসছে তাঁর জন্য শুভেচ্ছা। বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই বোলারকে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির তরফেও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে অ্যান্ডারসনকে।