ময়দানে ফিরল সোনালি দিন, ডার্বির টিকিটের জন্য সাত সকালেই লম্বা লাইন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেজে গিয়েছে ডার্বির দামামা। বাকি আর মাত্র তিনদিন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অফলাইন টিকিট দেওয়া শুরু করেছে আইএফএ। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান মাঠ ও আইএফএ অফিস থেকে। এই বছর ডার্বিতে যুবভারতীর ১, ২ ও ৩এ গেট থাকছে ইস্ট
শেষ আপডেট: 30 August 2018 06:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেজে গিয়েছে ডার্বির দামামা। বাকি আর মাত্র তিনদিন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অফলাইন টিকিট দেওয়া শুরু করেছে আইএফএ। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান মাঠ ও আইএফএ অফিস থেকে। এই বছর ডার্বিতে যুবভারতীর ১, ২ ও ৩এ গেট থাকছে ইস্টবেঙ্গলের জন্য। ৩বি, ৪ ও ৫ নম্বর গেট থাকছে মোহনবাগানের জন্য। আর টিকিট বিক্রি শুরু হতেই সকাল থেকে একই ছবি দুই প্রধানের ক্লাব তাঁবুর সামনে। কাতারে কাতারে লোক লাইন দিয়েছে ডার্বির টিকিট সংগ্রহের জন্য।
এই মুহূর্তে লিগ তালিকায় একই বিন্দুতে অবস্থান করছে ইস্ট-মোহন। গোলপার্থক্যে মোহনবাগান টেক্কা দিলেও ডার্বিতে ছবিটা পালটানোর সুযোগ আছে ইস্টবেঙ্গলের সামনে। সেইসঙ্গে হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক করার হাতছানি। সেই স্বপ্নেই বুঁদ লালহলুদ সমর্থকেরা। তাই সকাল থেকেই লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে জনারণ্য। পুরুষ-মহিলা, শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকলে জড়ো হয়েছেন ক্লাব তাঁবুর সামনে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন, লাইন দিচ্ছেন নিজের সুযোগের জন্য। সেইসঙ্গে স্লোগান উঠছে নয়ে নয় করার।
দেখে কে বলবে, এই দলটাতেই লিগের শুরুর দিকে স্ট্রাইকার সমস্যায় বিক্ষোভ হয়েছিল গ্যালারিতে। এক সিরিয়ান আল আমনা ও বন্যাবিধ্বস্ত কেরলের জবি জাস্টিন পুরো ছবিটাই পালটে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে কোস্টারিকান বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টার অপেক্ষায় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। ডার্বিতেই হয়তো অভিষেক হতে চলেছে অ্যাকোস্টার।
একই ছবি পাশের গোষ্ঠ পাল সরণিতেও। পাঁচ বছর পর এই প্রথমবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের থেকে গোলপার্থক্যে হলেও এগিয়ে নামছে সবুজমেরুন ব্রিগেড। গত মরশুমে এই গোলপার্থক্যেই হাতছাড়া হয়েছিল লিগ। তাই এ বার আট বছরের খরা কাটিয়ে লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মোহনবাগান সমর্থকেরা। আর তাঁদের এই স্বপ্নে হাওয়া দিচ্ছেন দুই বিদেশি হেনরি কিসেকা-ডিপান্ডা ডিকা জুটি। ডিকা এই মুহূর্তে সাত গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। প্রতি ম্যাচেই গোল পাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে হেনরি গোল না পেলেও গোল করাচ্ছেন। তাই মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুর সামনেও সকাল থেকে লম্বা লাইন। সমর্থকেরা জয়ধ্বনি তুলছেন ডিকার নামে, হেনরির নামে। আসন্ন নির্বাচনের আগে ক্লাব কর্তাদের গণ্ডগোল, স্পনসর সমস্যা ভুলে এখন সবার চোখ ডার্বির দিকে।

মরশুমের প্রথম বড় ম্যাচের আগে ঠিক যেন সত্তর-আশির দশকের ছবি ফিরে এসেছে ময়দান জুড়ে। সেই এক আবেগ, এক উত্তেজনা, নিজের প্রাণের দলকে সমর্থন করার জন্য রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা। এমনকী ডার্বির টিকিটের দাম ১০০ টাকা, ২০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও ৮০০ টাকা হলেও তাতে চাহিদা কমছে না। হোক না কলকাতা লিগের ডার্বি। টিকিটের দাম হোক না বেশি। এ যে আবেগের লড়াই, অস্তিত্বের লড়াই, ইলিশ-চিংড়ি, বাঙাল-ঘটির লড়াই। তাই অন্য সবকিছুই যে সেখানে ঠুনকো, তুচ্ছ।