দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোধা কমিটির সুপারিশ বাতিল করে বোর্ডের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম আনার যে আবেদন বিসিসিআইয়ের তরফে করা হয়েছে, তার শুনানি হওয়ার কথা আগামী সোমবার। অর্থাৎ আগামী সোমবার ঠিক হয়তে যেতে পারে বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়াদ আরও বাড়বে, নাকি লোধা কমিটির সুপারিশ মতো কুলিং অফ পিরিয়ডে যেতে হবে তাঁকে।
সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত লোধা কমিটির নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে ৬ বছর কাটিয়ে ফেললে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ৩ বছরের জন্য কুলিং অফ পিরিয়ডে যেতে হবে। অর্থাৎ এই তিন বছর প্রশাসনের কোনও পদে থাকতে পারবেন না তিনি। প্রশাসক হিসেবে সৌরভের ৬ বছর ২৭ জুলাই শেষ হয়ে গিয়েছে। কারণ প্রথমে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সচিব ও তারপর সভাপতির পদ সামলানোর পরেই বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বোর্ডের সচিব জয় শাহর মেয়াদ আরও আগে শেষ হয়ে গিয়েছে। কারণ, গুজরাত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে বহুদিন ধরে ছিলেন তিনি।
তার মানে লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আর বোর্ডের প্রশাসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন না সৌরভ ও জয়। আর সেই জন্যই গত বছর ডিসেম্বর মাসে বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় এই নিয়মে বদল করা হয়। বোর্ডের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাজ্য প্রশাসনে থাকা আর বিসিসিআইয়ে থাকার মেয়াদ আলাদা আলাদা ধরা হবে। তাহলে সৌরভরা তিন বছর করে দু’বার বিসিসিআইয়ের প্রশাসনে থাকতে পারবেন। তবে বোর্ডের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে সিলমোহর দেওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের। তাই গত ২১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে বোর্ডের তরফে আবেদন করা হয়।
বিসিসিআইয়ের তরফে আবেদনে বলা হয়, এই সময় নতুন প্রশাসক নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্ভব নয়। কারণ, করোনার জন্য এমনিতেই খেলার দুনিয়ায় অনেক বদল হচ্ছে। তাই সৌরভদের বোর্ডকেই আপাতত কাজ চালানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। শুধু তাই নয়, বোর্ডের সাধারণ সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সৌরভদের বোর্ডের মেয়াদ ৬ বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। সেখানেই জানানো হয়, ১৭ অগস্ট এর শুনানি হবে। কিন্তু জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই মামলা তালিকাভুক্ত হয়নি। সেক্ষেত্রে সোমবার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেরকম হলে আরও কিছুটা পিছিয়ে যাবে শুনানি। তবে যতদিন না শুনানি হচ্ছে, ততদিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সৌরভের কাজ করায় কোনও সমস্যা নেই। তবে সবার চোখ রয়েছে শীর্ষ আদালতের দিকে। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয় তার উপর ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।