দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতকে সমর্থন না করায় এক ফ্যানকে ভারত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। বিরাটের মন্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে দেশ জুড়ে। যদিও মহম্মদ কাইফের মতো খেলোয়াড় বা আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লার মতো প্রশাসক বিরাটকে সমর্থন করেছেন, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ক্রিকেট প্রেমী জনতা। এ বার সেই তালিকায় যোগ হলেন বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে।
মহম্মদ কাইফ, রাজীব শুক্লারা বিরাটকে সমর্থন করে বলেছেন, বিরাটের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আসলে ওরকম কিছু বলতে চাননি তিনি। কিন্তু ঠিক এর বিপরীতে গিয়ে বিরাটের এই মন্তব্যের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন হর্ষ ভোগলে। নিজের টুইটে সেই কথাই বলেছেন তিনি। টুইটে তিনি লিখেছেন, " বিরাট কোহলির এই মন্তব্য সেই বুদবুদের প্রকাশ, যা মানুষ বিখ্যাত হয়ে গেলে তৈরি হয়। মানুষ বিখ্যাত হলে নিজের পছন্দের কথাই শুনতে চায়। এর একটা বিপরীত দিকও আছে। ক্ষমতা ও খ্যাতি বেড়ে গেলে সেই ধরণের মানুষদেরই পছন্দ হয়, যাঁরা তাঁর প্রশংসা করে। আর এই ধরণের মানুষরাও আপনার হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে চায়। আর তাই তখন বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সেটা সহ্য করা যায় না।"
https://twitter.com/bhogleharsha/status/1060376270444380162
হর্ষ ভোগলের এই মন্তব্য শুধুমাত্র বিরাটের দিকে তাক করে তা নয়, বিসিসিআইকেও ঘুরিয়ে বিঁধেছেন হর্ষ। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে অনুরাগ ঠাকুর বোর্ড প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর বিসিসিআইয়ের কোনও স্থায়ী সভাপতি নেই। অস্থায়ী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সি কে খান্না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিনোদ রাই ও ডায়ানা এডুলজির নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক কমিটিই বোর্ড চালায়।
কিন্তু এই প্রশাসনিক কমিটির ক্ষমতা অনেকটাই কম। আর তাই ভারতীয় দলের অবিসংবাদী রাজা হয়ে উঠেছেন বিরাট। কোন সিরিজ তিনি খেলবেন, কোন সিরিজ খেলবেন না তা নিজেই ঠিক করছেন। দলে কে থাকবেন, কে থাকবেন না তাও বিরাটের উপরেই নির্ভর করে। এমনকী অনিল কুম্বলেকে ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরানোর জন্য বিরাটই আবেদন করেছিলেন। বর্তমান কোচ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে বিরাট সম্পর্ক কোহলির।
আর তাই সৌরভ, শচীন, ধোনিকে বোর্ডের তরফে যে বাধা-বিপত্তি সামলাতে হয়েছে তার কিছুই সামলাতে হয় না কোহলিকে। আর এতেই তাঁর অহং বেড়েছে বলে মনে করেন হর্ষ ভোগলে। কোন মন্তব্য ঠিক, কোনটা ভুল তার বিচার করার ক্ষমতায় কোথাও একটু সমস্যা হচ্ছে কোহলির। আর তাই এই ধরণের মন্তব্য করে ফেলছেন ভারত অধিনায়ক।
হর্ষ বলেছেন, নিজেকে শান্ত রাখা, অযথা উত্তেজিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে হবে বিরাটকে। ক্রিকেট মাঠে বিরাটের অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব বাস্তব জীবনেও এসে পড়ছে। এতে তাঁর হিতে বিপরীত হচ্ছে বলেই মত হর্ষ ভোগলের। আর এরকম মনোভাব থাকলে তা ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যও খারাপ মনে করেন এই অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকার। তাঁর প্রশ্ন, নতুন প্রজন্ম কাকে দেখে শিখবে? শচীনের মতো শান্ত, স্থির, সবার শ্রদ্ধার এক ক্রিকেটারকে দেখে, না বিরাটের মতো উগ্র, উদ্ধত এক ক্রিকেটারকে দেখে?