শোভন চক্রবর্তী
আবেগের বিস্ফোরণ ঘটতে চলেছে পৃথিবীর প্রায় ১০০ টি শহরে। ঢাকা থেকে ডাবলিন, মিউনিখ থেকে হ্যামিলটন, নাইরোবি থেকে টোকিও, সাওপাওলো থেকে সিডনি—উড়বে লাল-হলুদ পতাকা। জ্বলবে মশাল। উদযাপিত হবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষ।
১৯৭০-এর শিল্ড ফাইনাল। বিপক্ষে ইরানের পাস ক্লাব। দুরন্ত খেলছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু গোলের মুখ খুলছে না কিছুতেই। কোনও এক কর্মকর্তা হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন, “জংলারে নামাইয়া দ্যান। গোল পামু......”
ময়দানের জংলা তথা পরিমল দে’র নাম ছিল না প্লেয়ার লিস্টে। তখন এত নিয়মও ছিল না। কোচও একটা ইশারা করে বুট পরতে বলেন জংলাকে। খেলা তখন মিনিট সাতেক বাকি। রেডি হয়ে জংলা যখন নামলেন, তখন নির্ধারিত সময়ের বাকি আর মিনিট আড়াই। একাই তিনজন ইরানি স্টপারকে টানতে টানতে নিয়ে জালটা কাঁপিয়ে দিলেন। শিল্ড জিতল ইস্টবেঙ্গল।
তারপর কত ইতিহাস। ৭৩-এর শিল্ডে কোরিয়ার পিয়ংইয়ংকে হারানো, জাকার্তায় আশিয়ান জয়, প্রথম ভারতীয় ফুটবল ক্লাব হিসেবে এএফসি কাপের সেমি ফাইনাল—ময়দানের চালু প্রবাদ, বিদেশি টিম দেখলেই ঝলসে ওঠে জার্সিটা। বারবার এই নিদর্শন দেখা গিয়েছে। এ বার পৃথিবীর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা তাঁদের শহরে ক্লাবের পতাকা তুলবেন ৩-৪ অগস্ট। এশিয়ার জাপান, ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকার জাম্বিয়া, ঘানা, আমেরিকা নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, নিউ জার্সির মতো একাধিক শহর, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিলের সাওপাওলো ও ইউরোপের প্যারিস, মিউনিখ, আমস্টারডাম-সহ ১০০টি শহরে উড়বে লাল-হলুদ পতাকা।
ইস্টবেঙ্গল দ্য রিয়েল পাওয়ার (ইবিআরপি) এবং ব্রিটেনের বেঙ্গল হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের (বিএইচ এফ) উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে এই গ্লোবাল ফ্ল্যাগ হোয়েস্টিং-এর পরিকল্পনা। ইবিআরপি-র তরফে সুপর্ণ চক্রবর্তী বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা চার কোটি সমর্থককে এক জায়গায় আনতেই এই প্রয়াস।” দুনিয়ার দেশে দেশে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে স্পন্সর কোয়েসও যে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে, তা-জানান সুপর্ণ।
৩ অগস্ট ঢাকায় উঠবে প্রথম পতাকা। তারপরের ভারতের বিভিন্ন শহরে। এ দেশের পর আবুধাবি, দুবাই, বাহারিনে হবে পতাকা উত্তোলন। এরপর আফ্রিকার একাধিক দেশ, ইউরোপ, আমেরিকা এবং লাতিন আমেরিকায় উঠবে পতাকা। প্রতিটি জায়গাতেই স্থানীয় সময় দুপুর বারোটায় এই কর্মসূচি হবে। জাপান, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় হবে ৪ অগস্ট। ওই দিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রথম অনুশীলন যেখানে হয়েছিল ১৯২০ সালে, সেই কুমোরটুলি পার্কেও হবে বিশেষ কর্মসূচি।
এক একটা শহরে একএক রকম চমক অপেক্ষা করছে। বেলজিয়ামে পতাকা উত্তোলন করবেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ ফিলিপ ডি রাইডার। লন্ডন থেকে অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “হয় ম্যাঞ্চেস্টার, নয় লন্ডনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চিমা ওকেরি।” লন্ডনে এমনিতেই দুই প্রধানের সমর্থক দের ফোরাম খুব সক্রিয়। প্রতিবার বিলেতে বড় ম্যাচ করেন তাঁরা। এই অনুষ্ঠানকেও জাঁকজমক করে উদযাপন করবেন লন্ডনের ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। ব্রাজিলের সাওপাওলোতে লাল-হলুদ পতাকা তুলবেন আশিয়ান জয়ী দলের সদস্য ডগলাস দ্য সিলভা। ঘানায় পতাকা তুলবেন আশিয়ান জয়ী দলের অধিনায়ক সুলে মুশা। বার্সেলোনা শহরের কর্মসূচি হতে পারে বার্সার হোম স্টেডিয়াম ন্যু ক্যাম্পে।
ক্লাব কর্তারা প্রতিদিন প্রায় বৈঠক করছেন শতবর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে। আসার কথা কপিল দেবের। এক বছর ধরে চলবে কর্মসূচি। ২৮ জুলাই জোড়াবাগান থেকে ক্লাব তাঁবু পর্যন্ত হবে বর্ণাঢ্য পদযাত্রা। অন্যদিকে লেসলি ক্লডিয়াস সরণি থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই।