দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচ জিতে সমর্থকদের মনে আশা জাগিয়েছিল মোহনবাগানের স্প্যানিশ লাইনআপ। কিন্তু মরসুমের দ্বিতীয় ম্যাচ তথা ঘরোয়া লিগের প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা। নিজেদের মাঠে জহর দাসের পিয়ারলেসের কাছে হারল ৩-০ গোলে। প্রাক্তনী ক্রোমার ছোবলে বিদ্ধ হতে হল সবুজ-মেরুন ডিফেন্সকে। জোড়া গোল করলেন ক্রোমা। সেই সঙ্গে বড় লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেল কিবু ভিকুনার দল। পিয়ারলেসের অ্যান্টনি উলফ, অনিল কিস্কুরা যদি সহজ সুযোগ না নষ্ট করতেন, তাহলে পাঁচ গোলের কলঙ্ক লাগত জাতীয় ক্লাবের গায়ে। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি পেলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি মোহনবাগান। সালভা চামারোর শট সেভ করে দেন পিয়ারলেসের গোলরক্ষক জেমস।
গোটা ম্যাচে মোহনবাগানের ফুটবল দেখে, ডিফেন্সের ছন্নছাড়া অবস্থা দেখে কাজের দিনেও মাঠ ভরিয়ে দেওয়া সমর্থকদের বলতে শোনা গেল, ‘এটা ফুটবল? এটা মোহনবাবাগান?’ খেলার শুরুটা ভালই করেছিল মোহনবাগান। কিন্তু ক্রমেই খেই হারাতে শুরু করে। মাঝমাঠ, উইং কিছুই যেন কাজ করল না এ দিন। ৯ মিনিটে খেলার গতির বিপরীতে প্রথম আক্রমণ করে পিয়ারলেস। উলফের পাস থেকে ক্রোমার ইনস্টেপ দূরন্ত সেভ করেন শিল্টন পাল। কিন্তু ২৩ মিনিটেই ঘটে যায় বিপত্তি। মোহন জালে বল জড়িয়ে দেন লাইবেরিয়ান আনসুয়ামা ক্রোমা। পিয়ারলেস এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। প্রথমার্ধে আর তেমন কোনও পজিটিভ চান্স কোনও দলই তৈরি করতে পারেনি। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই লকার রুমে যায় বাগান টিম।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে অনেকেই ভেবেছিলেন মোহনবাগান বাড়তি উদ্যম নিয়ে মাঠে নামবে। সমতা ফেরানোর গোল্টা সেরেই ছুটবে জয়ের দিকে। কিন্তু তা আর হল কই! পিয়ারলেসের আক্রমণে সারা দ্বিতীয়ার্ধে মোহন ডিফেন্সে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠে গেল। তবে ৫৪ মিনিটে সমতা ফেরাতে পারত মোহনবাগান। ধনচন্দ্র সিং-এর সেন্টার থেকে রোমারিওর হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু তারপর থেকেই পিয়ারলেসের আক্রমণ শুরু।
৫৮ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করে পিয়ারলেসের অনিল কিস্কু। ৬৫ মিনিটে আগুয়ান শিল্টনের মাথার উপর দিয়ে বল তুলে দেন উলফ। অল্পের জন্য তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে সুযোগ নষ্ট করেন মোহনবাগানের শেখ ফৈয়াজ। ৭৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে পিয়ারলেসের লক্ষ্মীকান্ত মাণ্ডি। একেবারে সবুজ-মেরুন ডিফেন্সকে দাঁড় করিয়ে। পরের মিনিটেই ৩-০ করেন ক্রোমা।
আগের ম্যাচের নায়ক চামারোকে গোটা ম্যাচ থাকতে হল বোতলবন্দি হয়ে। জোনাল মার্কিং-এ ফেলে তাকে নড়তেই দিল না পিয়ারলেস মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা। পরের ম্যাচে নামার আগে মোহন ডিফেন্স নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় থাকতে হবে কোচ ভিকুনাকে।