দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা দেখে হয়তো কেউ ভাবেননি এই ম্যাচ জিতবে বাংলা। অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন অনুষ্টুপ মজুমদার, শাহবাজ আহমেদরা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই ওড়িশাকে তাদের ঘরের মাঠে পর্যদুস্ত করে প্রথম ইনিংসে লিডের হিসেবে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে পৌঁছল বাংলা।
প্রথম ইনিংসের শুরুতে ৪৬ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল বাংলার। দেখে মনে হচ্ছিল ফের স্বপ্নভঙ্গ হবে মনোজ তিওয়ারিদের। কিন্তু এবারের বাংলা দলে একজন ক্রিকেটার রয়েছেন, যিনি ব্যাট-বল দু'ক্ষেত্রেই দলকে হারা ম্যাচ জেতাচ্ছেন। গ্রুপ স্টেজে শেষ ম্যাচে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে তাঁর বল কামাল করেছিল। প্রথম ইনিংসে করল ব্যাট। অভিজ্ঞ অনুষ্টুপ মজুমদারের সঙ্গে মিলে বাংলাকে এক বড় রানে নিয়ে গেলেন শাহবাজ আহমেদ। অনুষ্টুপের ১৫৭ ও শাহবাজের ৮২ রানের দৌলতে ৩৩২ তোলে বাংলা।
তারপর বল হাতে কামাল দেখান বাংলার পেস ত্রয়ী। ইশান পোড়েল, নীলকণ্ঠ দাস ও মুকেশ কুমারের বিধ্বংসী বোলিং মাত্র ২৫০ রানে আটকে দেয় ওড়িশাকে। তিন পেস বোলারই ৩টি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট নেন শাহবাজ। প্রথম ইনিংসে ৮২ রানের লিড নেয় বাংলা।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখা যায়নি বাংলা শিবিরে। কৌশিক ঘোষ, অভিমন্যু ইশ্বরণ রান পেলেও হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি। অভিষেক রমন করেছেন ৬৭। উইকেট কিপার শ্রীবৎস গোস্বামী ৭৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে রান পাননি অনুষ্টুপ। দু'ইনিংসেই ব্যর্থ বাংলার সবথেকে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মনোজ তিওয়ারি। কিন্তু নিজের ধারাবাহিকতা দেখালেন শাহবাজ। প্রথম ইনিংসে ৮২ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৬৪ করলেন তিনি। ৪৫ রান করে তাঁকে সঙ্গ দিলেন অর্ণব নন্দী। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭৩ রান করে বাংলা। ওড়িশার সামনে টার্গেট দেয় ৪৫৫ রানের।
শেষ দিনে মাত্র ১০ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় ওড়িশা। করে ৩৯ রান। ম্যাচ ড্র হলেও প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় অরুণ লালের ছেলেরা।
এবার সামনে কর্ণাটক। মনীশ পাণ্ডে, করুণ নায়ার, কৃষ্ণাপ্পা গৌতমদের কর্ণাটককে হারাতে পারলেই ফাইনালে পৌঁছে যাবে বাংলা। চলে আসবে আরও একবার রঞ্জি জয়ের সুযোগ। আপাতত সেই স্বপ্নেই বুঁদ বাংলার এই তরুণ ব্রিগেড।