দ্য ওয়াল ব্যুরো : নির্বাচনের আগে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে বড় চমক বাগানে। নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলেন অঞ্জন মিত্র। সচিব পদে টুটু বসুর বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি। আচমকাই বুধবার নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে নাম প্রত্যহার করেন শৈলেন ঘোষ, শুভাশিস পাল-সহ আরও অনেকে। এর ফলে কার্যত একপেশে হয়ে গেল মোহনবাগানের লড়াই।
আগামী ২৮ অক্টোবর মোহনবাগানের নির্বাচন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে টুটু বসুর গোষ্ঠী। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক নির্বাচনী সভা করছেন টুটু বসু, সৃঞ্জয় বসু, দেবাশিস দত্তরা। এমনকী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, হোসে ব়্যামিরেজ ব্যারেটোকে নিজেদের প্রচারে শামিল করে একের পর এক চমকও দিয়েছেন তাঁরা।
কিন্তু উলটোদিকের শিবিরের ছবিটা ছিল অনেকটাই ম্যাড়ম্যাড়ে। ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছিল অঞ্জন মিত্রের শিবির। শেষমেশ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন সচিব পদ থেকে নাম তুলে নিলেন অঞ্জন মিত্র। তিনি একা নন, তাঁর গোষ্ঠীর শৈলেন ঘোষ, শুভাশিস পাল-সহ বেশ কয়েকজনই নাম প্রত্যাহার করে নেন বলে খবর। এ দিন বিকেল ৫টার মধ্যে নাম তুলে নেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। তার মধ্যেই এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি।
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত?
ময়দানে গুঞ্জন, টুটু গোষ্ঠীকে দমানোর অনেক চেষ্টা করেও পারেননি অঞ্জন মিত্র। শেষ চেষ্টা হিসেবে নেতা মন্ত্রীদেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও মতেই সমঝোতা হয়নি দুই শিবিরে। টুটু বসু শিবিরের প্রচার, জনপ্রিয়তা দেখে নিজেদের ভবিতব্য একপ্রকার বুঝেই গিয়েছিলেন অঞ্জন। সেই কারণেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।
তবে ভাঙলেও মচকাচ্ছেন না অঞ্জন মিত্র। মনোনয়ন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, টুটু বসু তাঁর অত্যন্ত কাছের বন্ধু। আর নির্বাচনে মুখোমুখি লড়াইয়ে বন্ধুত্বের ফাটল আরও প্রকট হবে। সেই কারণেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। কারণ যাই হোক, অঞ্জন মিত্রের এমন সিদ্ধান্তে টুটু বসু গোষ্ঠীর জয়ের পথে এ বার যে শুধু সিলমোহরের অপেক্ষা, তা বলাইবাহুল্য।