দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। জিম লেকারের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার তথা প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে। আর তাঁর এই ১০ উইকেট নেওয়ার পিছনে তাঁর সতীর্থ জাভাগাল শ্রীনাথের ভূমিকার কথা তুলে আনলেন কুম্বলে। বললেন, জীবনে প্রথমবার ইচ্ছে করে শ্রীনাথকে খারাপ বল করতে হয়েছিল।
সম্প্রতি জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন বোলার পমি এম্বাঙ্গোয়ার সঙ্গে একটি অনলাইন চ্যাট শোয়ে এই কথা তুলে আনেন কুম্বলে। সেই সিরিজে পাকিস্তান ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয় টেস্ট হচ্ছিল ফিরোজ শাহ কোটলাতে। শেষ ইনিংসে পাকিস্তানকে জিততে ৪২০ রান করতে হত। কিন্তু মাত্র ২০৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় পুরো পাক ব্যাটিং। ২১২ রানে ম্যাচ জিতে যায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসের ১০ উইকেটই নেন কুম্বলে।
ভারতের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার বলেন, “পাকিস্তানের ৬ উইকেট পাওয়ার পরে আমার মনে হয় ১০ উইকেট নিতে পারি। চা পানের বিরতির পরে এক ওভারে ৭, ৮ ও ৯ উইকেট আমি পাই। তারপরে একটা উইকেট বাকি ছিল। আমি জানতাম আমার আর একটা ওভার লাগবে। কিন্তু তার আগে শ্রীনাথকে এক ওভার বল করতে হত।”
কর্নাটকে একই রঞ্জি দলের হয়ে খেলতেন কুম্বলে ও শ্রীনাথ। তাই তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল অন্য ধরনের। বন্ধু কুম্বলে যাতে ১০ উইকেট পান তাই ইচ্ছে করে অফস্টাম্পের অনেক বাইরে বল করছিলেন শ্রীনাথ। কোনও ভাবেই যাতে উইকেট না আসে, সেই চেষ্টা করছিলেন তিনি। আর সেটা দেখে খারাপ লাগছিল কুম্বলের।
কুম্বলে বলেন, “আমি দেখছিলাম দূর থেকে দৌড়ে এসে অফস্টাম্পের বাইরে বল করতে হচ্ছে শ্রীনাথকে। প্রথমবার ইচ্ছে করে খারাপ বল করতে হচ্ছিল ওকে। আমার খুব খারাপ লাগছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম, পরের ওভারেই আমাকে শেষ উইকেট তুলে নিতে হবে। কারণ ওভাবে শীনাথকে আর এক ওভার করতে দিতে আমি পারতাম না। যদিও আমি ওকে বলেছিলাম নিজের স্বাভাবিক বল করতে। ও করেনি। অবশ্য পরের ওভারেই আমি উইকেট পেয়ে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয় গতকালই এই ঘটনা ঘটেছে। এটা খুবই স্পেশ্যাল ঘটনা। পাকিস্তানের কাছ থেকে অনেক চাপ এসেছিল। তাই আমাদের কোটলাতে জিততেই হত। পাকিস্তানের ওপেনিং পার্টনারশিপ ভাল হয়েছিল। লাঞ্চের পরে নিজের প্রান্ত বদল করে আমি প্রথম উইকেট পাই। একবার সেই পার্টনারশিপ ভাঙার পরে আমি একদিকের প্রান্ত থেকে বল করেই গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই বাকি উইকেট আমি পাই। উইকেটে খুব অসমান বাউন্স ছিল। সেটা ব্যবহার করেই আমি উইকেট তুলেছিলাম।”