দ্য ওয়াল ব্যুরো: আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে আবার বিস্ফোরক মিতালি রাজ। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আজকের দিনটিকে ‘জীবনের কালো দিন’ বলে টুইট করলেন মিতালি।
মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে হারার পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে ঝড় বইছে। ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত কাউরের বিরুদ্ধে মিতালিকে না খেলানোর অভিযোগ ওঠে। তোলপাড় পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট টিম ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ছাড়ার আগেই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। তারপর মুখ খোলেন মিতালিও।
দেশের অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের মতেই, মিতালিকে খেলালে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। তাঁদের যুক্তি, মিতালি কম বলে বেশি রান করেন না। কিন্তু ক্রিজে টিকে থাকার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর মধ্যে। ফলে, একদিকের উইকেটে একজন আঁকড়ে পড়ে থাকলেই ব্যাটিং অর্ডারে আত্মবিশ্বাস চলে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ড ম্যাচে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ব্যাটিং লাইন-আপ কোনও সম্মানজনক পার্টনারশিপই গড়ে তুলতে পারেনি।
এই বিতর্ক যখন ফুটছে তখনই মঙ্গলবার মুখ খোলেন মিতালি। চিঠি লেখেন বোর্ডকে। কোচ-সহ টিম ম্যানেজমেন্টের দিকে আঙুল তুলে মিতালি লেখেন, “কিছু লোক আমাকে শেষ করে দিতে চায়।” তাঁর বিরুদ্ধে ‘লবি’ করার অভিযোগে নিশানা করেন কোচ রমেশ পাওয়ারের দিকে । এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা বর্তমান সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। টুইট করে মহারাজ লেখেন, “মিতালি, ওয়েলকাম টু আওয়ার ক্লাব।” প্রসঙ্গত, সৌরভের এই টুইটের পর স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসে গ্রেগ চ্যাপেল জমানায় তাঁর করুণ পরিণতির কথা। সৌরভ এখনও যে কোনও অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেন, “অনেক সময় মনে হয় জীবনটা খুব স্বাভাবিক। হঠাৎ একটা ঝড় এসে সেটা বদলে দেয়। কেউ প্রস্তুত থাকে না। কিন্তু যারা পা শক্ত করে উঠে দাঁড়ায়, তাঁদের আর কোনও ঝড়ই টলাতে পারে না।”
https://twitter.com/M_Raj03/status/1068007740293832705
মিতালি তাঁর বোর্ডকে লেখা চিঠিতে কোচের হাতে হেনস্থা হওয়ারও অভিযোগ করেছিলেন। বোর্ডও রিপোর্ট চেয়েছিল কোচের থেকে। রমেশ পাওয়ার (ভারতীয় দলের হয়ে টেস্ট এবং ওয়ান ডে মিলিয়ে খেলেছেন ৩৩টি, মোট রান ১৭৫, মোট উইকেট ৪০টি) মুখ বন্ধ খামে একটি দশ পাতার রিপোর্ট জমা দেন বিসিসিআই-কে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর, ওই চিঠিতে রমেশ লিখেছেন, “মিতালি দেশের চেয়ে বেশি নিজের জন্য খেলেন।” জানা গিয়েছে চিঠিতে এ-ও লেখা হয়েছে, “পাকিস্তান ম্যাচের আগে টিম মিটিং-এ মিতালি বলেন, তাঁকে যদি ওপেন করতে না পাঠানো হয় তাহলে তিনি খেলবেন না।” অথচ, সিনিয়র খেলোয়াড় হয়েও মিতালি রাজ টিম মিটিং-এ পরামর্শ দেওয়া তো দূরের কথা, মুখই খুলত না।
এরপরই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ একটি আবেগঘন টুইট করেন মিতালি। ক্রিকেট মহলের মতে, মিতালি ইস্যুতে আসলে মুখ পুড়ছে বোর্ডেরই। কারণ এত অভিযোগ যদি মিতালির বিরুদ্ধে থাকে, তাহলে আগে ব্যবস্থা হয়নি কেন? হঠাৎ কী এমন হলো যে বিশ্বকাপের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে গেল। প্রসঙ্গত, এ বারের টিম নিয়ে অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। বিরাট কোহলিরাও অনবরত উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তাল কাটে সেমি ফাইনালে। ব্রিটিশ মেয়েদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয় ব্লিড ব্লুদের। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে মিতালি ইস্যু যে পর্যায়ে যাচ্ছে, তা এক্ষুনি থামার নয় বলেই মত অনেকের।