
শেষ আপডেট: 10 February 2024 22:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুরন্ত মোহনবাগান। সুপার কাপে ব্যর্থতার পরে আইএসএলে ফের পুরনো ছন্দে সবুজ মেরুন বাহিনী। তারা শনিবার রাতে যুবভারতীতে ঘরের মাঠে হায়দরাবাদ এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে।
এই স্কোর দেখে যদি কেউ ভেবে নেন, ম্যাচে জোরদার লড়াই হয়েছে, তা হলে বিস্তর ভুল হবে। কারণ মোহনবাগান এদিন যা খেলেছে, সেই খেলা যদি বাকি টুর্নামেন্টে বজায় রাখতে পারে, খেতাবের কথা ভাবতেই পারেন কোচ। হাবাস একটা দলের কৌশল বদলে আরও সচল করে দিয়েছেন। পুরো দলটি মুভ করছে স্বচ্ছন্দগতিতে। অ্যাটাকিং থার্ডে অনেকে মিলে যাচ্ছেন। সারা ম্যাচে বিপক্ষ গোল মুখ লক্ষ্য করে ২৮টি শট মেরেছেন মনবীর, কামিন্সরা।
গত আইএসএলে ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিল মোহনবাগান, ঠিক সেখান থেকেই এদিন শুরু করেছিল হাবাসের দল। তিনি সবুজ মেরুনের কোচ হয়ে আসার পরে দলের মধ্যে দারুণ একটা ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে। তিনি দলের রিজার্ভ বেঞ্চকে সুন্দরমতো সাজিয়েছেন। আগের কোচ জুয়ান যা পারেননি, সেটি কম সময়ের মধ্যে করেছেন আরও এক স্প্যানিশ কোচ। এদিনই যেমন অভিষেক সূর্যবংশী ও বাংলার উঠতি ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসকে নামিয়েও দেখে নিলেন কোচ।
এদিন ম্যাচে ১২ মিনিটের মাথায় অনিরুদ্ধ থাপার গোলে ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান। কর্ণার থেকে ভাসানো বল হায়দরাবাদের একেবারে গোলমুখে পেয়ে যান অনিরুদ্ধ। বল জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি তিনি। তিন মিনিট পরেই কামিন্সের সামনে গোলের সুযোগ চলে এসেছিল, তিনি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বাইরে মারেন।
২০ মিনিটে আব্দুল সাহাল সামাদের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট প্রতিহত হয় হায়দরাবাদ রক্ষণে। ২৩ মিনিটেও মনবীরের পাস ধরে কামিন্স গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তিনি যা খেলেছেন, যুবভারতীর দর্শকরা খুশি হয়েছেন।
৩২ মিনিটে কোচ আমনদীপকে তুলে নিয়ে কিয়ান নাসিরিকে নামান। যদিও শনিবার বিরতির আগে দিমিত্রি, মনবীর ও কামিন্সের ত্রিভুজ গোল চোখের আরাম দিয়েছে। হাবাসের ম্যাচ কৌশল এতেই বোঝা হয়ে গিয়েছে।
মোহন শিবির দুটি গোল করলেও তাদের জেতা উচিত ছিল হাফডজন গোলে। সবদিক থেকে হাবাসের দল এগিয়ে ছিল, সেটাই হল। হায়দরাবাদ লিগের লাস্ট বয় হলেও তাদের বিরুদ্ধে দাপটে জয়ও মোহন সমর্থকদের উদীপ্ত করবে সন্দেহ নেই।
মোহনবাগানের প্রথম একাদশ:
বিশাল কাইথ (গোলকিপার), শুভাশিস বোস (অধিঃ), গ্লেন মার্টিন্স, হেক্টর, আমনদীপ, সাহাল আবদুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিং, অভিষেক সূর্যবংশী, জেসন কামিন্স ও দিমিত্রি পেত্রাতোস।