
শেষ আপডেট: 19 February 2024 21:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনোজ তিওয়ারি বরাবরই ডাকাবুকো প্রকৃতির। বারবার ক্রিকেট মাঠে বিতর্কে জড়িয়েছেন। একবার আইপিএলের সময়ও গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। মনোজ প্রায়ই একটা কথা বলেন, আমি চোখের সামনে অন্যায় দেখতে পারি না। ইয়েস ম্যান হলে হয়তো নামের পাশে আমার ২৫টা টেস্ট ম্যাচ লেখা থাকত। কিন্তু যখনই মনে হয়েছে, ভুল করছে কেউ, ভয় না পেয়ে বলেছি, প্রতিবাদ করেছি। যে কারণে আমাকে অনেকেই পছন্দ করে না।
রবিবারই ইডেনে ঘরের মাঠে বিহারের বিরুদ্ধে ম্যাচে ক্রিকেট কেরিয়ারকে বিদায় জানিয়েছেন মনোজ। বাংলা অধিনায়ককে দিনের দিনই সংবর্ধনা জানায় সিএবি। সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনিও বলেছেন, মনোজের যতটা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল, সেটি কোনও কারণে পায়নি। তাতেও ওঁর ক্রিকেট দক্ষতা কমবে না। প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটে দশ হাজার রান করেছে, এটা বিরাট মাইলফলক।
সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব জয় শাহ জানিয়েছেন, ভারতের জাতীয় দলের সদস্যদেরও আন্তর্জাতিক খেলা না থাকলে তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ঈশান কিষান বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই অমিত শাহ পুত্র এটা জানান।
মনোজকে সেই নিয়ে সোমবার বিকালে কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক তাঁবুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এতদিন পরে বোধোদয় হল বোর্ডের! তারা কি এতদিন ঘুমোচ্ছিল। আমি তো সেদিনও এই নিয়ে বলতে আমার ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হল। ভাগ্যিস আমি অবসর নিয়ে ফেলেছি, না হলে তো এসব বলার জন্য আমার কেরিয়ারই শেষ করে দিতেন কর্তারা।
মনোজ যে প্রকারান্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুত্রকেই বিঁধেছেন, সেটি বেশ পরিষ্কার। কারণ মনোজ নিজে তৃণমূলের বিধায়ক তথা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাই তিনিও রাজনৈতিক সুরেই এর বিরোধিতা করেছেন বলে মনে করছে ক্রিকেটমহলও।
মনোজ এদিন মিডিয়া প্রতিনিধিদের আরও বলেছেন, ভারতে অনেক বেশি প্রতিভা অস্ট্রেলিয়ার থেকেও। কিন্তু এখানে ঘরোয়া ক্রিকেটকে গুরুত্ব না দিয়ে আইপিএল নিয়ে বেশি ভাবছেন কর্তারা। তাই ধীরে ধীরে সর্বনাশ হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের।