
রদ্রি
শেষ আপডেট: 15 July 2024 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ বাঁশি বেজে গেছে। প্রথম দেশ হিসেবে চতুর্থবারের জন্য ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন কোচ সহ বাকি ফুটবলাররা। কিন্তু তিনি কিছুটা নিশ্চুপ। একা এক কোণে দাঁড়িয়ে ইউরো সেরা হওয়ার মুহূর্তটা অনুভব করছেন যেন। তিনি স্পেনের 'সাইলেন্ট হিরো', তিনি রদ্রি।
রদ্রিগো হার্নান্দেস কাসকান্তে। এটাই তাঁর পুরো নাম। তবে তাঁর জার্সিতে নাম লেখা থাকে শুধু রদ্রিগো, আর গোটা বিশ্ব তাঁকে রদ্রি বলেই চেনে। তিনি মেসি, রোনাল্ডো বা এমবাপেদের মতো গোলস্কোরার নন। পেপে, ব়্যামসের মতো ডিফেন্ডারও নন। কিন্তু তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যাকে কোচরা বসাতে দু'বার ভাবেন। এবারের ইউরো কাপের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। কী এমন খেলেছেন রদ্রি?
২০২৪ ইউরো কাপে রেকর্ড করেছে স্পেন। প্রথম কোনও দেশ হিসেবে টানা ৭ ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই সাতটি ম্যাচে ১টি গোল করেছেন রদ্রি। দুটি হলুদ কার্ড থাকায় একটি ম্যাচ খেলেননি। তাও তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হলে কীভাবে, এই প্রশ্ন অনেকের মনেই আসছে। এখানেই জানতে হবে রদ্রির আসল কাজটা কী। তাঁর মূল কাজ কখনই গোল করা নয়। গোটা দলের ভরকেন্দ্র বলতে গেলে তিনিই।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের ইউরোতে রদ্রির নিখুঁত পাসিং প্রায় ৯৩ শতাংশ। ৪৩৯টি পাসের মধ্যে ৪১১টিই সফল পাস। বিপক্ষ প্লেয়ারের থেকে ৩৩ বার সফল স্ন্যাচিং করেছেন। আর একটি গোলও করেছেন। এক কথায় বলা যায়, স্পেনের মাঝমাঠে রদ্রি ছিলেন একটি স্তম্ভ, যাকে ভেঙে এগোনোটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে রদ্রি দলের আক্রমণে সাহায্য করেন, অন্যদিকে তিনিই দলের গোল না খাওয়া নিশ্চিত করেন।
কাতার বিশ্বকাপে রদ্রিকে সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলিয়েছিলেন তৎকালীন কোচ লুই এনরিকে। কিন্তু সেটা তাঁর পছন্দের জায়গা ছিল না। কোচ ফুয়েন্তে দলের দায়িত্ব নিয়েই রদ্রিকে তাঁর পছন্দের জায়গা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রদ্রি একজন মানব কম্পিউটার। ওর নজরে সব থাকে। কোনও কিছুই এড়িয়ে যায় না। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইলানে রদ্রিকে তুলে নিতে না চাইলেও তা করতে বাধ্য হয়েছিলেন দলের কোচ। অবশ্যভাবে খেলা শেষ হওয়ার আগ-মুহূর্ত পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপে ছিলেন তিনি। তুলে নেওয়ার আগে হয়তো দুবার নয়, দুশো বার ভেবেছিলেন কোচ।
ছোট পাস, বড় পাস যাই হোক না কেন, রদ্রির পা থেকে ভুল পাস যেন বেরবেই না। নিজের পায়ে বল থাকাকালীন তিনি চারিদিকটা যেন নিমেষেই স্ক্যান করে নিতে পারেন। কোথায় কোন সতীর্থ পারফেক্ট জায়গায় রয়েছে সেই বুঝে পাস যায় রদ্রির। দেশের মতো ক্লাব ফুটবল দল ম্যান সিটিতেও তাঁর ভূমিকা অপরিহার্য। মাঝমাঠের অন্য অস্ত্রদের সরিয়ে দিলেও রদ্রির ক্লাবের কোচও তাঁকে সরাতে চান না। চোটের কারণে রদ্রির খেলতে না পারা কোচদের জন্য যেন দুঃস্বপ্ন।
এহেন রদ্রি খেলার বাইরে মেঘের আড়ালেই থাকতে ভালবাসেন। তাঁর কোনও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই। কোনও বান্ধবী আছে কিনা তাও কেউ জানে না। রাস্তায় বেরলে তাঁকে ঘিরে সেভাবে ভিড় হয় না। রদ্রিকে নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে মাতামাতিও হয় কম। তবে এসব নিয়ে একদমই চিন্তিত নন তিনি। চুপিসারে নিজের কাজ করে চলেছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ড মায়েস্ত্র।