এখন লক্ষ্য স্পষ্ট—আবার বিশ্বের সেরা দশে ফেরা এবং ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের আগে একই রিদম বজায় রাখা।
.jpeg.webp)
লক্ষ্য সেন
শেষ আপডেট: 23 November 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ট্রফির খরা কাটালেন লক্ষ্য সেন (Lakshya Sen)। সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সুপার ৫০০ জিতে চলতি মরসুমের প্রথম শিরোপা ঘরে তুললেন বিশ্বের ১৪ নম্বর ভারতীয় শাটলার। রোববার ফাইনালে স্ট্রেট গেমে হারালেন জাপানের ইউশি তানাকাকে (Yushi Tanaka)। স্কোরলাইন: ২১–১৫, ২১–১১। মাত্র ৩৮ মিনিটে একতরফা জয়—যা লক্ষ্যর সাম্প্রতিক ছন্দের স্পষ্ট প্রমাণ।
সেমিফাইনালে আগের দিনই দ্বিতীয় বাছাই ছো তিয়েন চেনের (Chou Tien Chen) বিরুদ্ধে ৮৬ মিনিট লড়াই করে জিতেছিলেন লক্ষ্য। সেই ম্যাচের পর খুব বেশি রিকভারি সময় পাননি। তবু ফাইনালে শুরু থেকেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। তানাকাকে এক মুহূর্তও রাশ হাতে তুলতে দেননি। দ্রুতগতির র্যালি, আক্রমণাত্মক শট নির্বাচন—সব মিলিয়ে কোর্টে ঝলসে ওঠে চেনা দাপট। জয়ের পর নিজের সিগনেচার সেলিব্রেশন—কান বন্ধের অঙ্গভঙ্গি—করে স্পষ্ট বার্তা, বাইরের সমালোচনা নয়, কোর্টে নিজের খেলাতেই মনোযোগী তিনি। এরপর কোচ ইউ ইয়ং সাং–কে জড়িয়ে ধরা আর বাবা ডি.কে. সেনের (DK Sen) কাঁধে ওঠা—সব মিলিয়ে সিডনির গ্যালারিতে ধরা দেয় আবেগঘন দৃশ্য!
আসলে ফাইনালের আগের তিন ম্যাচও লক্ষ্যর জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় রাউন্ডে চি ইউ জেনের (Chi Yu Jen) বিরুদ্ধে তিন গেমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জিতে নেন। কোয়ার্টারে সহজে হারিয়েছিলেন সহ-দেশি আয়ুষ শেট্টিকে (Ayush Shetty)। তবে সেমিফাইনালই ছিল সবচেয়ে কঠিন। প্রথম গেম হারার পর দ্বিতীয় গেমে ২২–২৪-এর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ম্যাচ বাঁচিয়ে কিস্তিমাত দেন প্রতিপক্ষকে—যা ফাইনালেও দুরন্ত পারফরম্যান্সের রসদ জুগিয়েছে।
বছরের শুরুতে লক্ষ্যর খেলায় ছিল ধারাবাহিকতার অভাব। টোকিও–পরবর্তী হতাশা, চোট–আঘাত মিলিয়ে বেশ কিছু টুর্নামেন্টে আগেভাগেই বিদায় নিতে হয়। অল ইংল্যান্ড ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনাল ছাড়া বড় সাফল্য নেই। কিন্তু মরসুমের শেষভাগে যেন হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছেন—জাপান মাস্টার্সে সেমিফাইনাল, হাইলো ওপেনে কোয়ার্টার, আর সিডনিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিজনের ইতি টানলেন। এখন লক্ষ্য স্পষ্ট—আবার বিশ্বের সেরা দশে ফেরা এবং ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের আগে একই রিদম বজায় রাখা।