দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি চিরকালই ‘বিতর্কিত’ কথা বলতে পছন্দ করেন। ময়দানের অনেকের মতে, ১৯৯৭-এর ডায়মন্ড ম্যাচের আগে যদি তিনি ওই গরম গরম কথা না বলতেন, তাহলে যুবভারতী ১ লাখ ২০ হাজারের গ্যালারি দেখত না।
তাঁর পোশাকি নাম স্বপনসাধন বসু। ময়দান তাঁকে চেনে টুটু নামেই। সেই টুটু বসু এ দিন মোহনবাগানের লিগ জয়ের আনন্দে ভেসে যা বললেন, তাতেই বিতর্ক তৈরি হলো ময়দানে। অভিযোগ, টুটুবাবু এ দিন খেলার বিরতিতে যে মন্তব্য করেছেন, তা প্রবল লিঙ্গবৈষম্যমূলক।
মোহনাবাগান তখন হেনরির জোড়া গোলে এগিয়ে। গ্যালারিতে উৎসব শুরু হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের খরা কাটানোর আনন্দে মাতোয়ারা মোহন জনতা। ঠিক সেই সময়ই কলকাতা লিগ সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঞ্চালক এক সঙ্গে দাঁড় করান টুটু বসু এবং অঞ্জন মিত্রকে। দীর্ঘদিনের দুই বন্ধু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। ইদানীং অবশ্য ক্লাবের গোষ্ঠী রাজনীতিতে দুজনে যুযুধান। কিন্তু আজ মোহনবাগানের জয়ের দিন। টুটুবাবু নিজের স্টাইলে চিৎকার করে উঠলেন, “আজ কোনও রাজনীতি নয়। আজ শুধু মোহনবাগান-মোহনবাগান-মোহনবাগান।” এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। এরপরই টুটু বসুকে সঞ্চালক এত বছর পর ঘরোয়া লিগ জেতার অনুভূতি জানতে চান। তার উত্তরে মোহন সভাপতির উত্তর,“সাত বছর ধরে মেয়ে হচ্ছিল। হঠাৎ করে একটা ছেলে হয়ে গেছে।”
আর এই মন্তব্যেই বিতর্কের ঝড় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ময়দান সর্বত্র। অনেকেই বলছেন, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ স্লোগানকেই যেন চ্যালেঞ্জ করে দিলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ।
ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাও খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না। বেহালার এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের কথায়, “মোহনবাগান এ বার আট বছর পর ঘরোয়া লিগ জিতেছে। টুটু বাবু বললেন সাত বছর পর। আনন্দে সব হিসেব গুলিয়ে গেছে।” অনেক মোহনবাগান সমর্থকও এই ধরনের কথাকে সমর্থন করছেন না। যদিও টুটু শিবিরের লোকেদের বক্তব্য, ওটা আবেগে বলে ফেলেছেন। এত জল ঘোলা করার কী আছে!