
কেএল রাহুল
শেষ আপডেট: 11 April 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘কান্তারা'র পুনর্জন্মের সাক্ষী থাকল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। জন্মান্তর ঘটালেন যিনি, তিনি কর্নাটকের ভূমিপুত্র কেএল রাহুল। কন্নড় ফিল্ম ‘কান্তারা’। মুক্তি পায় তিন বছর আগে। সেই ছায়াছবিরই একটি বিশেষ দৃশ্যের অনুপ্রেরণায় তিনি বেঙ্গালুরুকে একা হাতে পরাস্ত করে সেলিব্রেট করেছেন। ফাঁস করলেন রাহুল নিজে।
গতকাল থেকে ক্রিকেট মহলের চর্চায় রাহুলের উচ্ছ্বাস। যা চব্বিশ ঘণ্টা গড়াতে না গড়াতেই শিরোনামে চলে এসেছে। একদা যে দলের হয়ে খেলেছেন, যে শহরে জন্ম তাঁর, বেড়ে উঠেছেন যেখানে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৩ রান করে দিল্লি ক্যাপিটালসকে জিতিয়ে নিজের অনুভূতি আটকে রাখতে পারেননি কেএল রাহুল। সোচ্চারে, সদম্ভে ঘোষণা করেন নিজের উপস্থিতি। হাতের অস্ত্র ব্যাট। যা দিয়ে সংহার করেছেন আরসিবি বোলারদের। সেঞ্চুরির খানিক আগে জয়সূচক রান উঠে যাওয়ার পর সেই ব্যাটকেই তলোয়ারের ছলে ক্রিজের চারপাশে গণ্ডী কাটার মতো একপাক ঘোরান রাহুল। তারপর হাতের ব্যাট সেই বৃত্তের কেন্দ্রে ফের একবার গেঁথে দেন এবং ঘোষণা করেন: ‘এই ময়দান আমার।’
The way he says 'This is mine' ???? pic.twitter.com/DKnWv2HcmN
— Delhi Capitals (@DelhiCapitals) April 11, 2025
এমনিতে এবারের আইপিএল বেশ কিছু আইকনিক উৎসবের সাক্ষী। দিগ্বেশ রাঠীর নোটবুক সেলিব্রেশন থেকে সাইন-অফ সেলিব্রেশন। চর্চা, বিতর্কের কোনও কমতি ছিল না। সেই তুলনায় রাহুলের উচ্ছ্বাস অন্য রকম কৌতূহল আমদানি করেছে। সমালোচনার বদল উস্কে উঠেছে জিজ্ঞাসা: কোথা থেকে এমন আনন্দ জাহিরের অনুপ্রেরণা পেলেন তিনি? ম্যাচ শেষে একথাই জানতে চান সাংবাদিকরা। উত্তরে রাহুল বলেন, ‘এই জায়গা আমার কাছে স্পেশাল। আর আজকের সেলিব্রেশন আমি নিয়েছি খুব প্রিয় একটি ফিল্ম ‘কান্তারা’ থেকে৷ সামান্য হলেও সবাইকে মনে করে দিতে চেয়েছিলাম: এই পিচ, এই জায়গা… এখানেই বেড়ে উঠেছি আমি। এটা আমারই।’
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে মুক্তি পায় ‘কান্তারা’। যার চিত্রনাট্যে পুরাণ, লোকবিশ্বাসের সঙ্গে মিশে গিয়েছে রাজনীতি। কেন্দ্রে জমি দখলের লড়াই। দক্ষিণ ভারতের একটি জঙ্গলঘেরা গ্রাম কাদুবেট্টু। রাজ্যের রাজা সেই গ্রামটি স্থানীয় দেবতা পঞ্জুরলির নামে দান করেন। কয়েক দশক বাদে রাজনৈতিক ও সামাজিক পালাবদল। তারপর এক সরকারি বনকর্তা জোর আইনের জোরে সেই জমি দখল করেন এবং জানিয়ে দেন এই অরণ্য আসলে সংরক্ষিত অঞ্চল। যেখানে আইনত গ্রামবাসীদের কোনও অধিকার নেই৷
এরই সূত্রে দানা বাঁধে বিতর্ক৷ গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসেন৷ শুরু হয় প্রতিবাদ। সেটাই সশস্ত্র আন্দোলনের চেহারা নেয়। যার মুখ হয়ে ওঠেন শিবা। ফিল্মের নায়কও তিনি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে একটি বিশেষ দৃশ্যে তরোয়াল ঠুকে জমির নি:শর্ত অধিকার ঘোষণা করেছিলেন শিবা।
রুপোলি পর্দার সেই দৃশ্যপটই গতকাল বেঙ্গালুরুর ময়দানে নবরূপে হাজির করলেন কর্নাটকের ভূমিপুত্র রাহুল।