সুব্রত ভট্টাচার্য
আমি মাঝেমধ্যে অবাক হয়ে যাচ্ছি এটা ভেবে যে কলকাতা লিগ (Kolkata League) কেন খেলল না কলকাতার দু’প্রধান? আমরা তো কলকাতা লিগ খেলেই নাম করেছি, আমাদের যা লোকে চেনে, সব লিগের দৌলতে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলার আনন্দই আলাদা।
কলকাতার দুই নামী দল না খেলল লিগ, না খেলছে ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) মতো প্রাচীনতম টুর্নামেন্ট। আইএসএল (ISL) খেলব, বাকি কোনও টুর্নামেন্ট খেলব না, এটা কী করে হতে পারে। তাতে সমর্থকদের দোষ কোথায়? তাঁরা প্রতিবছর সদস্যের বার্ষিক চাঁদা দিচ্ছেন, তাঁদের তো আশা থাকতেই পারে, নিজেদের মাঠে গিয়ে খেলা দেখার, কেমন দল হয়েছে তা পরখ করার। সারা বিশ্বে এমন করেই সমর্থকদের আবেগকে কাজে লাগানো হয়। এখানকার কর্তাদের দেখে আমার কালিদাসের কথা মনে হচ্ছে, যে ডালে বসে রয়েছেন, সেই ডালই কাটছেন।
আমি এটিকে-মোহনবাগানের কোচ হাবাসের কথাও বলব, তিনি তো নামী কোচ, তাঁর কাছে সুযোগ ছিল একটা দ্বিতীয় সারির দল তৈরি করে নেওয়া লিগ খেলে। সেটা কেন জানি না কাজে লাগালেন না উনি। আর সবচেয়ে বড় দোষ এটিকে ও মোহনবাগান কর্তাদের। তাঁরা কি জানেন ক্লাবের ইতিহাস? তাঁরা কি অন্ধকারে ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছেন?
আরও পড়ুন: গর্জে উঠলেন সবুজ মেরুন জনতা, ‘হটাও এটিকে...’ তাঁবুতে বিক্ষোভ, কুশপুতুল দাহ
এক এটিকে কর্তা এর মধ্যে বলে বসলেন, মোহনবাগান নাকি এর আগে এএফসি টুর্নামেন্ট খেলেনি, তিনি কী করে এমন সব বললেন? আমি তো বলব এরা সব মূর্খ, অজ্ঞ মানুষ। যেহেতু দলের পিছনে অর্থ ঢালছে, সেইজন্য এমন বলছে, তাঁদের এই নিয়ে জবাবদিহি করা উচিত।
এই কথা বলে মোহনবাগানের প্রাক্তন তারকাদের অসম্মান করেছেন উৎসব পারেখরা। এগুলি মানা যায় না। এমনকি সবুজ মেরুনের শীর্ষ কর্তাদেরও জানতে চাওয়া উচিত, তিনি কেন এসব বললেন? আমি এখনই বলব না এটিকে সরে যাওয়া উচিত, কারণ অর্থ দরকার ক্লাব চালাতে গেলে, হাওয়ায় কথা বলে লাভ নেই। তবে দেখতে হবে যাতে করে মান সম্মান বজায় থাকে আমাদের মোহনবাগান ক্লাবের। এটি একটি প্রতিষ্ঠান, সেটি ভেবে কথা বলা উচিত।
সবশেষে বলব, আইএফএ-র কথা, সংস্থায় এমন এক সচিব রয়েছেন, যাঁর সেই ধার নেই, কারণ তিনি আগে থাকতেই শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের কাছে নিজেদের সবটা বিলিয়ে দিয়েছেন। তাই তিনি মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দলকে বলতে পারছেন না, লিগ না খেললে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে, তারজন্য নিজের জমি শক্ত চাই। আর আমি অবাক হই, তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের দেখে, তাঁরা খেলার মাঠের দখল নিতে মরিয়া হয়ে রয়েছেন। কিসের এত মোহ, কিসের এত পাওয়ার লোভ?
এর আগেও বামফ্রন্ট সরকারের আমলে জ্যোতি বাবুরা ছিলেন, সুভাষ চক্রবর্তী, যতীন চক্রবর্তীরা খেলা পাগল লোক ছিলেন। তাঁরা মাঠেও আসতেন, কিন্তু খেলার পদ নেওয়ার এত মোহ ছিল না, যা দেখতে পাই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে। এত করেও খেলার উন্নতি হচ্ছে কোথায়? গত ১০-১১ বছরে ক’টা বাংলার ছেলে উঠেছে, জানাতে পারলে খুশি হবো। এভাবে পদের জন্য লালায়িত হয়ে লাভ নেই, তাতে বাংলার ফুটবল ও অন্য খেলা একবিন্দু এগোবে না।
(সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুলিখন)
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'