দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার জন্য দায়ী হয়, তবে সেই পরিস্থিতিতে ইরান কোনওভাবেই ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে না।

ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
শেষ আপডেট: 12 March 2026 00:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ-কূটনীতি আর ফুটবল - জুড়ে গেল এক সুতোয়। আরব দুনিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে ফুটবল বিশ্বেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিল ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার (Khamenei assassination) জন্য দায়ী হয়, তবে সেই পরিস্থিতিতে (US Iran conflict) ইরান কোনওভাবেই ফিফা বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) অংশ নিতে পারে না (Iran World Cup boycott)।
বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোনিয়ামালি সরাসরি বলেন, “এই দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থা (আমেরিকা) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনও অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।”
এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলেও তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কারণ, আসন্ন বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হল আমেরিকা, এবং বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের সব ম্যাচেই ইরানের খেলার কথা।
আমেরিকার মাটিতেই ইরানের ম্যাচ, তাই বাড়ছে বিতর্ক
আগামী ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে সূচি অনুযায়ী ইরানের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো নির্ধারিত হয়েছে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে, যেমন লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটল। ফলে এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার মাটিতে খেলতে যাওয়ার প্রশ্নেই আপত্তি তুলছে তেহরান।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য, “আমাদের শিশুদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো পরিবেশই নেই।”
তিনি আরও বলেন, “তারা আমাদের বিরুদ্ধে যে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে গত আট-নয় মাসে আমাদের উপর দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাই এমন পরিস্থিতিতে সেখানে গিয়ে খেলার প্রশ্নই ওঠে না।”
যুদ্ধের ভয়াবহ প্রেক্ষাপট
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ক্রমশই তীব্র হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টা হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১,২৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ।
এই সংঘাতের জেরে তেহরান একাধিক দফায় ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি আরব দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামোতেও আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ।
এই যুদ্ধ পরিস্থিতিই বিশ্বকাপ নিয়ে ইরানের অবস্থানকে আরও কঠোর করে তুলছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনও তুলেছিল প্রশ্ন
আসলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন প্রথম তুলেছিলেন ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ। গত সপ্তাহেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১ মার্চ ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাজ বলেন, “এই হামলার পর আমরা কীভাবে আশা নিয়ে বিশ্বকাপের দিকে তাকাব?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি বিশ্বকাপ এমন পরিস্থিতির মধ্যে হয়, তাহলে সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ কি তার জাতীয় দলকে সেখানে পাঠাতে চাইবে?” তবে তিনি তখন সরাসরি বয়কটের ঘোষণা করেননি।
ফিফা ও ট্রাম্পের বার্তা
অন্যদিকে ফিফার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানের অংশগ্রহণকে স্বাগতই জানানো হয়েছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের দলকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য স্বাগত জানিয়েছেন।
ইনফান্তিনো সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়েছে।
তিনি জানান, “আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, আমেরিকায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ইরানের দলকে অবশ্যই স্বাগত জানানো হবে।”
প্রথম যোগ্যতা অর্জন করেছিল ইরান
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী দেশগুলির মধ্যে প্রথম দিকেই জায়গা নিশ্চিত করেছিল ইরান।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেহরানের কড়া অবস্থান এখন বিশ্বকাপে ইরানের ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।