
বাদামের নাড়ু খেতে ভালবাসেন পিভি সিন্ধু
শেষ আপডেট: 2 March 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন অ্যাথলিটের কাছে প্রোটিন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আর আলাদা করে বলার দরকার নেই। এটা যেমন একদিকে একজন অ্যাথলিটের পেশি-শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, ঠিক তেমনই গোটা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের অলিম্পিক্স পদকজয়ী শাটলার পিভি সিন্ধু জানিয়েছেন, এই প্রোটিন শুধুমাত্র তাঁর ডায়েটের গুরুত্বপূর্ণ অংশই নয়, এটা তাঁর পারফরম্য়ান্স উন্নতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।
সুষম আহার একজন অ্যাথলিটের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা খুব অল্প বয়সেই বুঝে নিয়েছিলেন পিভি সিন্ধু। কারণ তাঁর পরিবার আগে থেকেই খেলাধুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাবা-মা দুজনেই পেশাদার ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। সেকারণে ছোটবেলা থেকেই সিন্ধু ভারসাম্যযুক্ত খাবার-দাবার সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন। তবে দিদিমার পরামর্শেই তিনি সর্বপ্রথম প্রোটিনজাত খাবার খেতে শুরু করেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া একটি ইন্টারভিউয়ে তিনি বলেছেন, 'আমার শরীরে যখন প্রোটিনের দরকার পড়েছিল, সেটা উনি খুব ভাল করেই বুঝেছিলেন। খাড়া করেছিলেন নিজের ট্র্যাডিশনাল যুক্তি। আমাকে স্ন্যাকস হিসেবে বাদামের নাড়ু দেওয়া হত। কখনও-সখনও খিদে পেলে আমি নিজেও সেই নাড়ু খেতাম।'
এরপর দিন যত এগিয়েছে, সিন্ধুর ডায়েটে প্রোটিন একটা অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কারণ অনুশীলন করার সময় এই প্রোটিনই তাঁকে সাপোর্ট দেয়। একজন সাধারণ মানুষের থেকে অ্যাথলিটের শরীরে প্রোটিনের চাহিদা অনেকটাই বেশি থাকে। শারীরিক ওজনের প্রতি কিলোগ্রাম অনুসারে ১.২ থেকে ২ গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। বিষয়টা ব্যাখ্যা করে সিন্ধু বললেন, 'আমি সকালে অনুশীলন করি। সেকারণে প্রাতরাশে ২-৩ ডিম আমাকে খেতে হয়। বাকিদের একটা করে খেলেও চলে। এরপর মধ্যাহ্নভোজে আমি স্যালাড, অনেকটা ডাল, পনির কিংবা শাকসবজি খাই। সঙ্গে থাকে একটু ভাত আর দই। আমার নৈশভোজেও এই একই খাবার থাকে। তবে রাতের খাবারে পনিরের পরিবর্তে আমি মুরগির মাংস খাই।'
তবে শুধুমাত্র প্রোটিনজাত ডায়েটই যে সিন্ধুর সাফল্যের চাবিকাঠি নয়, সেটাও নির্দ্বিধায় জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ব্যাডমিন্টন খেলতে গেলে মাথাটা ভীষণভাবে কাজে লাগাতে হয়। সেকারণে শারীরিক কসরতের পাশাপাশি প্রতিদিন ধ্যান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিন্ধু বললেন, 'কোনও টুর্নামেন্ট খেলতে নামাপ আগে আমি যথেষ্ট প্রাণায়াম করি। এরফলে আমি নিজেকে শান্ত রাখতে পারি। সঙ্গে নিজের খেলার উপরেও ফোকাস থাকে। প্রতিদিন আমি ধ্যান করি। টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেলে কয়েকটা দিন বিশ্রাম নিই। তারপর আবারও নিজেকে ফোকাস করতে শুরু করি। পরদিন আবারও কোর্টে ফিরে যাই।'
সম্প্রতি সিন্ধুর ব্যক্তিগত জীবনে এক নয়া অধ্যায় শুরু হয়েছে। ভারতের এই অলিম্পিক্স পদকজয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা গত বছর ডিসেম্বর মাসে ভেঙ্কট দত্ত সাঁইকে বিয়ে করেছেন। রাজস্থানের উদয়পুরে এই বিয়ের আসর বসেছিল।