ধর্মশালায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৬-এ আটকে রাখা ছিল নিখুঁত দলগত বোলিংয়ের ফল। প্রায় একই ছবি দুবাইয়েও।

ধর্মশালায় রবিবার
শেষ আপডেট: 15 December 2025 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে ধর্মশালার কনকনে ঠান্ডা, অন্যদিকে দুবাইয়ের শুষ্ক হাওয়া। মাঠ আলাদা, প্রতিপক্ষ আলাদা। কিন্তু ছবিটা এক-ভারতীয় বোলারদের (Indian bowlers) নিয়ন্ত্রিত দাপটে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিল ভারত। সিনিয়র দলে দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে যেমন, তেমনই অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে (U-19 Asia Cup) পাকিস্তানের (Pakistan U-19) বিপক্ষে—শেষ হাসি হাসল নীল জার্সির দল।
ধর্মশালায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে (IND vs SA 3rd T20I) দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৬-এ আটকে রাখা ছিল নিখুঁত দলগত বোলিংয়ের ফল। শুরু থেকে শেষ—প্রত্যেকে উইকেটের ভাগ বসালেন। শেষ দিকে কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) নটজে (Anrich Nortje) আর বার্টম্যানকে (Ottneil Baartman) ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন। প্রোটিয়ারা আর কখনও ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
তবে আলোটা সবচেয়ে বেশি পড়েছে বরুণ চক্রবর্তীর (Varun Chakravarthy) উপর। ধর্মশালার ঠান্ডায় যেখানে পেসারদের বাড়তি সুবিধা ছিল, সেখানেই রহস্য স্পিনার চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। পরিসংখ্যানের থেকেও বড় তাঁর নিয়ন্ত্রণ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে ১৮ উইকেট, গড় ১০.৯৪—এই সংখ্যাগুলো বলে দিচ্ছে, ২০২১ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর বরুণ কীভাবে নিজের গল্পটা নতুন করে লিখেছেন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের (Team India) ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে তাঁর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
১১৭ রান তাড়া করতে নেমে অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে সুর বেঁধে দেন। কিছুক্ষণ মনে হচ্ছিল, তিনি যেন অন্য পিচে ব্যাট করছেন! যদিও পাওয়ারপ্লে-র শেষ ওভারে আউট হয়ে যান, তখনও ভারত ৬০/১। পরে গিল (Shubman Gill) আর তিলক বর্মা (Tilak Varma) ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। ছোট লক্ষ্য হলেও পেস আর বাউন্সে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কিছু প্রশ্ন কিন্তু থেকেই গেল।
প্রায় একই ছবি দুবাইয়েও। অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে ভারত বনাম পাকিস্তান—নার্ভের লড়াই বরাবরের মতোই তীব্র। টিম ইন্ডিয়া তোলে ২৪০। শুরুটা আক্রমণাত্মক হলেও মাঝপথে ধস নামে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ম্যাচটা গড়ে দেন অ্যারন জর্জ (Aaron George)। ৮৫ রানের ইনিংস, পাওয়ার নয়—টাইমিং আর ধৈর্যের ফসল। সঙ্গে কানিষ্ক চৌহানের (Kanishk Chouhan) ৪৬। এই দু’জনেই ভারতের ইনিংসের মেরুদণ্ড।
জবাবে পাকিস্তান কখনওই ম্যাচে ফিরতে পারেনি। দীপেশ দেবেন্দ্রন (Deepesh Devendran) নতুন বলে ধাক্কা দেন। এরপর একে একে উইকেট পড়ে। হুজাইফা আহসানের (Huzaifa Ahsan) ৭০ রান ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। মজার ব্যাপার—যে বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) ব্যাট হাতে ব্যর্থ, সেই তিনিই বল হাতে পাকিস্তান অধিনায়ক ফরহান ইউসুফকে (Farhan Yousaf) ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। নিট ফল ৯০ রানের বিশাল জয়।