৩৫০ রানের টার্গেট ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা বারবার ম্যাচে ফিরল, আবার পিছিয়েও গেল। আর সবশেষে রোহিত শর্মার ঠান্ডা মাথায় একটা ক্যাচেই থেমে গেল তাদের লড়াই।

শেষ আপডেট: 30 November 2025 22:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরু থেকেই ইঙ্গিত ছিল, ম্যাচটা জমবে (IND vs SA 1st ODI)। কিন্তু যে নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত গড়াল, তার জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউই। ৩৫০ রানের টার্গেট ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা বারবার ম্যাচে ফিরল, আবার পিছিয়েও গেল (India vs South Africa match report)। আর সবশেষে রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) ঠান্ডা মাথায় একটা ক্যাচেই থেমে গেল তাদের লড়াই। দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট ৩৩২, ভারত জিতল ১৭ রানে(India won south Africa by 17 run)।
কোহলির ১৩৫, রোহিতের রেকর্ড - ৩৪৯/৮ তুলে চাপ তৈরি ভারতীয় ব্যাটিংয়ের
টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুব দ্রুতই ভুল প্রমাণ করতে শুরু করেন রোহিত ও কোহলি। যশস্বী জয়সওয়াল শুরুটা দ্রুত করে দিলেও নন্দ্রে বার্গারের বলে আউট হতেই মাঠে নামেন কোহলি, তারপর রাঁচিতে যেন শুধু একটাই নাম। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে গড়লেন ১০০-রও বেশি রানের স্ট্যান্ড, যেখানে কোহলি (Virat Kohli) ছিলেন আগ্রাসী, রোহিত ছন্দ খুঁজে পেয়ে গিয়ার বদলালেন।
কোহলি ছুঁলেন ৫২তম ODI সেঞ্চুরি, রোহিতের ফ্লুয়েন্ট ফিফটি এবং রেকর্ডসংখ্যক ছক্কা। আরও এক নাম না নিলেই নয়, তা হল কেএল রাহুল - ৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও।
কোহলি যখন আউট হলেন, গোটা জেএসসিএ স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। গৌতম গম্ভীরও ডাগআউট থেকে উঠে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেন। এমনকি এক সমর্থক নিরাপত্তা ঘেরা ভেঙে এসে তাঁর পায়ে পড়ে যায়। কোহলি–জ্বরে তখন রাঁচি উত্তাল।
হর্শিত রানা, ডেবিউর পর সবচেয়ে বড় বিবৃতি, প্রথম ওভারেই দুই উইকেট!
৩৫০ রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা কেঁপে ওঠে হর্শিতের গতিতে। তার প্রথম ওভারেই দুই উইকেট, এতটাই আগুনে শুরু যে দক্ষিণ আফ্রিকার ডাগআউটে হতভম্ব কোচ। পরে ব্রেভিসকে ফিরিয়েও আরও একবার ম্যাচে ভারতকে ফিরিয়ে আনেন এই তরুণ পেসার।
জ্যানসেনের তাণ্ডব - ২৬ বলে ফিফটি, ম্যাচে ফিরে আসে প্রোটিয়ারা
যেখানে সবাই টিকে থাকার লড়াই লড়ছে, সেখানে মার্কো জ্যানসেন হঠাৎ ছন্দ পাল্টে দিলেন ম্যাচের। ২৬ বলে ৫০, রীতিমতো ঝড়। একসময় ভারতের হাতে থাকা ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে ঘুরতে শুরু করে।
কুলদীপের মারণ ওভার, এক ওভারে ব্রিটস্কে–জ্যানসেন আউট, ওখানেই ঘুরে গেল ম্যাচ। তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত ছিল একটাই - কুলদীপ যাদবের সেই ওভার।
এক ওভারেই ব্রিটস্কে এবং জ্যানসেনকে ফেরত পাঠিয়ে জয় ভারতের দিকে টেনে আনেন তিনি। এর আগে টনি ডি জর্জিকে আউট করতেই বিরাটের ভয়ংকর গর্জন, রাঁচির গ্যালারি যেন জ্বলে ওঠে।
মার্করাম–ব্রেভিস–বোসের পাল্টা লড়াই, কিন্তু শেষ হাসি ভারতেরই
অর্শদীপ সিংহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মার্করামকে আউট করেন। ব্রেভিস ঝড় তুললেও রানার হাতেই তাঁর শেষ। সব শেষ ভরসা ছিল করবিন বোস। ৬৭ রানে দাঁতে–দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছিলেন। স্লো ওভার–রেট পেনাল্টিতে ভারতের বাউন্ডারির বাইরে তখন মাত্র চার ফিল্ডার—চাপ বাড়ছিল প্রতি বলে।
তখনই মঞ্চে আসেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। শেষ ওভারের নাটক, প্রসিদ্ধের বলে উঠল বল, রোহিত ধরলেন… নিখুঁত ক্যাচ, বিন্দুমাত্র চাপ দেখা গেল না তাঁর মুখে। ম্যাচ শেষ!
সংক্ষেপে ম্যাচের হাইলাইটস
ভারত এখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।