টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে কড়া বার্তা দিল আইসিসি। সতর্ক করা হল পিসিবিকে।

ভারত-পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 2 February 2026 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ (T20 World Cup 2026) শুরুর আগেই তুঙ্গে বিতর্ক। ভারতের (India) বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ম্যাচ খেলতে রাজি নয় পাকিস্তান—এই মর্মে সরকারি নির্দেশ জারি হতেই সরব হল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। প্রকাশ্যে তাদের প্রশ্ন, বেছে বেছে ম্যাচ না খেলা, এমন কি আদৌ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে করা যায়?
রবিবার বিকেলে পাকিস্তানের তরফে খবরটি সামনে আসে এবং রাতের মধ্যেই বিবৃতি দেয় আইসিসি। কাউন্সিলের স্পষ্ট বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তান সরকারের বিবৃতি লক্ষ্য করার পর তারা অবস্থান স্পষ্ট করছে। জানানো হয়, “সকল যোগ্য দলকে সমান শর্তে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়। সিলেকটিভ পার্টিসিপেশন (Selective Participation) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মৌলিক ধারণার সঙ্গে যায় না।”
‘দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে’, সতর্ক করল আইসিসি
পাকিস্তানের এই হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে খুব একটা ভালভাবে নেয়নি আইসিসি। দেওয়া হয়েছে কড়া হুঁশিয়ারিও। কাউন্সিলের ভাষায়, “আমরা সরকারি নীতিকে সম্মান করি ঠিকই, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটভক্তদের, এমনকি পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ সমর্থকেরও স্বার্থের পরিপন্থী। আইসিসি টুর্নামেন্ট স্পোর্টিং ইন্টেগ্রিটি (Sporting Integrity), ন্যায্যতা এবং ধারাবাহিকতার ওপর দাঁড়িয়ে। কোনও ম্যাচে না নামা এই ভিত্তিকে দুর্বল করবে।”
সতর্ক করে জানানো হয়, এতে পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তাই পিসিবিকে অনুরোধ করা হয়েছে এমন সমাধান খুঁজে বের করতে, যা সকলের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং বিশ্বকাপের মর্যাদা বজায় রাখবে।
পাকিস্তান সরকার ঠিক কী নির্দেশ দিয়েছে?
শনিবার পাকিস্তান সরকার একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “পাকিস্তান দলকে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি–টোয়েন্টি ২০২৬–এ অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে; তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এ ভারতের বিরুদ্ধে থাকা ম্যাচে দল মাঠে নামবে না।”
সরকারের তরফে এই পোস্টটি দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স–এ (X)। এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনা শুরু হয়। কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ যে কোনও ক্রিকেট টুর্নামেন্টেরই সবচেয়ে বেশি দরাদরি ও ভিউয়ারশিপ–নির্ভর ম্যাচ। বাতিল হলে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক মান—দুই–ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি খেলার মতো সেক্টরে শুধুমাত্র একটি দেশের বিরুদ্ধে মাঠে না নামা মোটেও ভাল বার্তা দেবে না।
সব বিবেচনা করে আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য একটাই—টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজন। এর দায়িত্ব সব সদস্য দেশের, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও। তাই পিসিবি সরকারের নির্দেশ মেনে ম্যাচ ছাড়বে, নাকি আলোচনার পথ খুঁজে বের করবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।