
শেষ আপডেট: 27 January 2024 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় একটা প্রচলিত কথা রয়েছে—এ ভাবেও ফিরে আসা যায়! এ কথা বহু ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে গেছে ঠিকই। কিন্তু শনিবার অস্ট্রেলিয় ওপেনের ডাবলসে রোহন বোপান্না সতীর্থ ম্যাথু এবডেনকে নিয়ে যে রোমাঞ্চকর খেলাটি খেললেন তার পর ওই প্রচলিত কথাটাই বলা ছাড়া উপায় কী! বিশ্ব টেনিসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে (৪৩) গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার খেতাব এখন তাঁর ঝুলিতে।
৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা। ইয়া চওড়া কব্জি। তাঁর বীভৎস জোরে সার্ভিংয়ের জন্য কেরিয়ারের শুরুতে তাঁকে বলা হত বফর্স বপস্। সেই তিনি চার বছর আগে হাঁটুর চোটে কুঁকড়ে গেছিলেন। এটা উনিশ সালের শেষ কুড়ি সালের গোড়ার দিকের কথা। সকালে ঘুম থেকে উঠলেই হাঁটুতে সুঁচ ফোটানোর মতো ব্যাথা। কোর্টে পা ফেলার জো ছিল না। তার আগে একটানা ষোল বছর ধরে প্রো-টেনিস খেলেছেন। তাতে কার্টিলেজের ছেঁড়াফাটা অবস্থা। হাড়ের সঙ্গে হাড় ঘষে ক্ষয়ে গেছে।
অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন বোপান্নার কেরিয়ার শেষ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০০৩ সালে টপ টেন-এ ফিরে আসাটা এক অসাধারণ কাম ব্যাক বইকি। এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে (Association of Tennis Professionals) প্রথম দশ জনের মধ্যে তাঁর বয়সই ছিল সবচেয়ে বেশি। শুধু প্রথম দশ নয় প্রথম একশ জনের মধ্যে তাঁর মতো ‘বুড়ো’ কেউ ছিল না। শেষ বার ২০১৬ সালে এই এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে স্থান জুটেছিল তাঁর।
তাঁর এই ফিরে আসাটাই অনুপ্রেরণা জোগানোর মতো। শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা থেকে শুরু বহু মানুষ শনিবার সেই নিরলস প্রয়াসেরই তারিফ করেছেন। বোপান্নার কথা তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি এভাবে ফিরে আসতে পারবেন। কোভিডের কারণে ২০২০ সালে টেনিস ট্যুর বন্ধ ছিল। আয়াঙ্গার যোগা কেন্দ্রে তাঁর হাঁটুর সমস্যার কথা খুলে বলেন বোপান্না। তারাই শুরু করে তাঁর হিলিং। বোপান্না জানিয়েছেন, সেই যোগাসনে শুধু শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যাপার ছিল, তা ছিল অ্যাক্টিভ যোগাসন। এজন্য অনেক প্রপ ব্যবহার করতে হত। প্রপ, রোপ, পেশী শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল ইত্যাদি। তাতেই হাঁটুর চারপাশের পেশী শক্তিশালী হয়। গায়ে ফের আগের মতই জোর পেতে শুরু করেন তিনি।
বোপান্নার সতীর্থরা বলেন, রোহনের টেনিস কিটে যোগা প্রপগুলো তার পর থেকে প্রায় অপরিহার্য হয়ে ওঠে। সপ্তাহে তিন দিন করে টানা তিন-চার মাস যোগা করার পরই কোর্টের ফেরেন বোপান্না। টেনিস র্যাঙ্কিংয়ে ক্রমশ উপরে উঠতে শুরু করেন।
ভারতীয় টেনিসে তাঁর পূর্বসূরীদের তুলনায় বোপান্নার ঘরানা একেবারে অন্যরকম। তাঁর খেলা ছিল পাওয়ার টেনিস। ফোর হ্যান্ড, এক হাতে ব্যাক হ্যান্ড, সার্ভিংয়ে তুমুল পাওয়ার। এই ‘ফায়ার পাওয়ারই’ তাঁকে ডাবলসে এগিয়ে রেখেছিল বলে মনে করেন বোপান্না।
তাঁর কথায়, “টেনিস খেলা মানে নিজের কোম্পানি শুরু করা। আগে তোমাকে মূলধন ঢালতে হবে। তার পর চেষ্টা করে যেতে হবে। কোথায় গিয়ে থামবে তা না জেনেই এটা করে যেতে হবে। বছরের পর বছর ধরে তাই করে গেছি। আমার কোচ, ফিজিও বেছে নেওয়ার উপর জোর দিয়েছি। তাতেই টিকে গেছি।”