কাসপারভের ঠান্ডা গলায় ‘অতীতের ভূত’-মন্তব্যটুকু যেন ফের মনে করিয়ে দিল—দাবার বোর্ডে ইতিহাস কখনও মরে না, শুধু ঘুঁটি বদলায়।

আনন্দ বনাম কাসপারভ
শেষ আপডেট: 13 October 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনো লড়াই আবার ফিরে এল। তিরিশ বছর আগে নিউইয়র্কে (New York, 1995) বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের (World Chess Championship) মঞ্চে যাঁর হাতে হার মেনেছিলেন বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand), সেই গ্যারী কাসপারভ (Garry Kasparov) ফের একবার তাঁকে হারালেন—এবার প্রদর্শনী টুর্নামেন্টে (Clutch Chess: The Legends), কিন্তু প্রভাবটা রীতিমতো ঐতিহাসিক ম্যাচের মতোই তীব্র। আর জয়ের পর কাসপারভের মন্তব্য যেন আবারও পুরনো ক্ষত ছুঁয়ে গেল—‘অতীতের ভূত এখনও ভিশিকে ছাড়েনি!’
সেন্ট লুইসের (St. Louis) এই ফ্রিস্টাইল দাবা প্রতিযোগিতায় তিন দিনে ১২টি র্যাপিড ও ব্লিটজ গেম খেলা হয়। কাসপারভ জেতেন ১৩–১১ ব্যবধানে, সেটাও একেবারে দুই রাউন্ড বাকি রেখেই। আনন্দ শেষ দুইটি ম্যাচ জিতলেও, তখন আর ফল বদলায়নি।
মজার বিষয়, ম্যাচের পয়েন্ট সিস্টেম ছিল ‘ক্যাসকেডিং’। প্রথম দিনে জয়ে ১ পয়েন্ট, দ্বিতীয় দিনে ২, আর শেষ দিনে ৩। প্রথম দুই দিনেই কাসপারভের দাপট প্রায় নির্ধারণ করে দেয় ফল।
ম্যাচ শেষে সেন্ট লুইস চেস ক্লাবের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে কাসপারভ বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওর মধ্যে কিছু মানসিক অস্বস্তি কাজ করছিল। প্রথম দিন থেকেই ওর সবকিছু ঠিকমতো হয়নি। আমার বিরুদ্ধে ওর পুরনো রেকর্ড খারাপ, তাই হয়তো “অতীতের ভূত” ফের ওকে ছুঁয়ে গিয়েছে!’
৬১ বছরের প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এ-ও বলেন, ‘লড়াইটা খুব কঠিন ছিল। আমি বহু গেমে ভাগ্যবান ছিলাম। কয়েক জায়গায় ম্যাচ ঘুরে যেতে পারত। আমি কিছু ভালো গেম খেলেছি, কিন্তু যেগুলো জিতিনি, সেগুলোই হয়তো সবচেয়ে ভালো ছিল! দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচটা হারলেও পরেরটা জিততে পেরেছি—আমার মনে হয়, ফলটা ন্যায্য।’
কাসপারভ আরও যোগ করেন, ‘আমি তো এখন আর পেশাদার খেলোয়াড় নই। আমার প্রত্যাশা খুবই কম ছিল। এই জয় তাই অবাক করে দিয়েছে। জেতার পর একদম হালকা লাগছিল। মনে হচ্ছিল, হয়তো ঠিকঠাকই হলো না—কিন্তু চেষ্টা করেছিলাম। ইচ্ছে করে হারিনি।’
দাবার রাজা হিসেবে কাসপারভের সেই পুরনো মেজাজ এখনও অটুট। আনন্দের বিরুদ্ধে ম্যাচের সময়, সময়ের চাপেও তাঁর ঠান্ডা মাথা নজর কেড়েছে। নিজেই বললেন, ‘সময় ফুরোচ্ছিল, কিন্তু তাতেও আমি ভালো খেলেছি—এটা আমিও ভাবিনি। ভাগ্যও আমার পক্ষে ছিল।’
একদা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, এখন দুই কিংবদন্তির এই নতুন মুখোমুখি আবারও স্মৃতি জাগাল নব্বইয়ের সেই দাবার মহাযুদ্ধের। কিন্তু কাসপারভের ঠান্ডা গলায় ‘অতীতের ভূত’-মন্তব্যটুকু যেন ফের মনে করিয়ে দিল—দাবার বোর্ডে ইতিহাস কখনও মরে না, শুধু ঘুঁটি বদলায়।